Enter your keyword

বিশ্বের প্রতি প্রন্তরে বাংলার মুখ

Saturday, October 29, 2016

ভাড়া নেয় সিটিং, যাত্রী টানে লোকাল

By On 4:11:00 AM
কোথায় যেন পড়েছিলাম, নগরপরিবহণগুলোর মধ্যে সরকারি খাতায় নাকি সিটিং এবং লোকাল বাস বলে আলাদা কোনো প্রকারভেদ নাই। সবই এক। ঘটনা সত্য কিনা জানি না। তবে যখন রাস্তার মোড়ে মেজিস্ট্র্যাট সাহেবরা আদালত বসিয়ে চেক করা শুরু করেন, তখন দেখা যায় দূরত্বভেদে ভাড়ার যে চার্ট ড্রাইভারের মাথার উপর ঝুলানো থাকে তা সব বাসে প্রায় একই রকম। তাতেই ধারণা করি, আসলে সব বাসের নিয়ম-কানুন একই হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো কোনটা গেটলক, কোনটা সিটিং, কোনটা কম-স্টপিজ, কোনটা আবার বিরতিহীন!

আরও চকমপ্রদ বিষয় হলো- কোনো বাসের গায়েই কিন্তু ‘লোকাল পরিবহন’ বলে কিছু লেখা থাকে না। লেখা না থাকলেও সমস্যা নেই, আমরা নিজ দায়িত্বেই ধারণা করে নেই যে অমুক বাসটা হয়তো লোকাল, আর তমুক বাসটা লোকাল না হলেও সিটিং ভাড়া দিয়ে যে কোনো স্থান থেকেই উঠা কিংবা নামা যাবে। আর ১/২টা ব্যতিক্রম ছাড়া সব বাসেই ইচ্ছে মতো লোক দাঁড়িয়েই যাওয়া যাবে।

আমরা যারা নিজেদের আম-জনতা তথা ম্যাঙ্গো-পাবলিক মনে করি অর্থাৎ যাদের একখান প্রাইভেটকার কিংবা প্রাইভেট কোনো পরিবহন নাই তারা প্রতিদিন ঝুলতে ঝুলতে সেসব গাড়িতেই যাতায়াত করি, আর সিটিং ভাড়া দিয়েও মনকে সান্ত্বনা দেই, তারপরও তো গন্তব্য পৌঁছতে পারা গেল, সেটাই-বা কম কি।

কিন্তু গতকাল ফেসবুকে একটা ইভেন্ট দেখে ভাবলাম ঘটনাটা একটু ঘেঁটে দেখি। ‘মিরপুর রোডে নামে সিটিং, ভাড়ায় চিটিং! যেখানেই নামেন ভাড়া কিন্তু ২৫/৩০!’ শিরোনামে একটি ইভেন্ট খুলেছে কিছু ইয়ংম্যান। ইভেন্টের ব্যাখ্যায় তারা যা লিখেছে তার মর্মার্থ হলো,

এই নৈরাজ্য আর কতদিন
সিটিং সার্ভিসের নামে চলছে ‘চিটিং সার্ভিস 
সিটিং সার্ভিস” লিখে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। 
সিটিং সার্ভিসে কাউন্টার ব্যতীত না থামা  সিটের অতিরিক্ত যাত্রী না উঠানোর নিয়ম থাকলেও তার কোনটিই মানে না ‘চিটিংসার্ভিসগুলো। 
নগরবাসীর বহুমুখী দুর্ভোগের সাথে নতুন  প্রতারণা যুক্ত হলেও দেখার কেউ নেই।

রাজধানীর কুড়িলনতুনবাজার হয়ে মিরপুর থেকে আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত বেশ কিছু বাস সিটিং সার্ভিস হিসেবে চালাচ্ছে। এইরুটে সিটিং সার্ভিসের কথা বলে সর্বনিম্ন ভাড়া নেয়া হয় ২৫ টাকা। 

তবে ভাড়ার বিপরীতে যাত্রীদের কোন টিকেট দেয়া হয় না। সিটিং সার্ভিসে সিটের অতিরিক্ত যাত্রী না উঠানোর নিয়ম থাকলেওবাসগুলোতে যাত্রী উঠানো হয় ঠেসে ঠেসে

গেটলক এসব পরিবহনে যেখানেই যাত্রী নামুক না কেন তাকে দিতে হচ্ছে সর্বশেষ গন্তব্যের ভাড়া।এবং এসব গাড়িতে শিক্ষার্থীদেরজন্য অর্ধেক ভাড়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। 
(যদিও মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ভাড়া হাফ করে দিয়েছেন


(বিঃদ্রঃইহাই বাংলাদেশের একমাত্র রোডযেখানে কোন লোকাল বাস নাই…!!) 

তাই এই নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীযোগাযোগ মন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী এর হস্তক্ষেপ কামনার জন্য আমাদের এইEvent..!!

কয়েক ঘন্টা পর্যবেক্ষণের পর দেখলাম ইভেন্টটিতে ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে। ভুক্তভোগী লোকজন তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। দুই/একজনকে আবার দেখলাম, তারা বাস মালিক পক্ষ নিয়ে এসে ভাড়া বেশি নেওয়ার পেছনের অদৃশ্য কারণগুলো ইনিয়ে-বিনিয়ে বলার চেষ্টা করছে। আশা করি সেসব কতটা সত্য তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের লোকজন ভেবে দেখবেন।

তবে আমাদের বক্তব্য হলো, ‘ভাড়া নেয় সিটিং, যাত্রী টানে লোকাল’ এই সমস্যা শুধু ঢাকার মিরপুর রোডের সমস্যা নয়, রাজধানীর অন্য সকল রাস্তাসহ দেশের অন্যান্য শহরের পরিবহনগুলোর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। অতএব, কর্তৃপক্ষ বলে যদি কিছু থাকে তারা এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

কক্সবাজারের মেয়ে নাসিমা এখন আন্তর্জাতিক আইকন

By On 4:08:00 AM
কক্সবাজারের মেয়ে নাসিমা এখন আন্তর্জাতিক আইকন। কিন্তু কিভাবে? খবরে জানা গেছে, গুপী বাঘা এবং জাপানের টেলিকমস্টাফের যৌথ প্রযোজনায় বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার নাসিমা সার্ফিংজীবন  কক্সবাজারের সার্ফিং নিয়ে নির্মিতডকুমেন্টারি সিনেমা নাসিমা প্রথম প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে জাপানের টোকিও শহরে। ছবিটি দেখানো হবে বিশ্বের অন্যতমমর্যাদাপূর্ণ ডকুমেন্টারি ফেস্টিভ্যাল টোকিও ডকস এ।
এই ছবিটি একত্রে যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন গুপীবাঘা প্রোডাকশন্স লিমিটেড এর কর্ণধার আরিফুর রহমানবিজন জুটি।

বাংলাদেশে সার্ফিং খেলায় নারীদের পথিকৃত নাসিমা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টি কেড়েছিলেন আরও আগেই। চার/পাঁচ বছরআগে মার্কিন সাংবাদিক জয়মাল ইয়োগিসের এক প্রতিবেদনে প্রথম উঠে আসে নাসিমার গল্প। এরপর তার গল্পে অনুপ্রাণিত হনক্যালিফোর্নিয়ার প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা হিথার কেসিঞ্জার। সিদ্ধান্ত নেন নাসিমার গল্প তুলে ধরবেন তার প্রামাণ্যচিত্রে। নাসিমাকেনিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্রটির নাম রাখা হয়েছে দ্য মোস্ট ফিয়ারলেস এর পর মোস্টফিয়ারলেস নাসিমাকে নিয়ে প্রতিবেদনএসেছে বৃটেনের সানডে টাইমসঅস্ট্রেলিয়ার দ্য অস্ট্রেলিয়ানেসহ আন্তর্জাতিক অনেক গণমাধ্যমে। কিন্তু আমাদের নাসিমাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আগ্রহের কারণ কী?

সার্ফিং বাংলাদেশে খেলা হিসেবে একেবারেই নতুনমূলত বিদেশী পর্যটকদের সার্ফিং দেখে দেখে সার্ফিং শুরু করেন জাফর আলম।তাকে দেখে অনুপ্রাণিত নাসিমা সার্ফিং  আসেন এবং পর পর চারবারের জাতীয় সার্ফিং চ্যাম্পিয়ান হন ছেলেমেয়ে উভয়েরমধ্যে। যখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নাসিমার নাম ছড়িয়ে পড়ছিল সারা বিশ্বেঠিক তখনি সার্ফিং ছেড়ে দিতে বাধ্য হন নাসিমা।

কিন্তু সার্ফিং ছাড়া তার জীবন অর্থহীন হয়ে যায়। শুরু হয় নাসিমার সার্ফিং  ফেরার লড়াইদু বছর পর আবারপ্রতিযোগিতায় নাম লেখান নাসিমা।  বছর বয়সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল কক্সবাজারের মেয়ে নাসিমাআক্তার। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ১৮ বছরের এই কিশোরী এখন নিজের জগৎ খুঁজে নিয়েছেন সার্ফিং খেলায়। সার্ফিংয়ের প্রতিঅদম্য ভালবাসা তার। আর  ক্ষেত্রে তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে নানা সামাজিক রক্ষণশীলতা  প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু কোনকিছু দমিয়ে রাখতে পারেনি তাকে।

বাংলাদেশের অনেক মানুষের কাছেই সার্ফিং নামের খেলাটা অপরিচিত। তবে সমুদ্র উপকূলে বেড়ে ওঠা নাসিমার কাছে এই খেলানেশার মতো।পানিতে নামার জন্য নানা কটূক্তি শুনতে হয়েছে তাকে। কিন্তু সার্ফিংয়ের প্রতি অদম্য আগ্রহ এগিয়ে নিয়ে গেছেতাকে। হিথার কেসিঞ্জার এবং আরিফুর রহমানবিজন জুটির প্রামাণ্যচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে নাসিমার সেই লড়াই।

Friday, October 28, 2016

রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে টাকা লাগবে না, পরিকল্পনাই যথেষ্ট

By On 3:40:00 AM
রাজধানীর মতিঝিল থেকে মিরপুর দশ নম্বর গোল চক্করের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার।ছুটির দিনে যদি রাস্তা ফাঁকা থাকে তাহলে গণপরিবহনে এ রাস্তাটুকু ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটে পাড়ি দেওয়া যায়। কিন্তু এ ৪০ মিনিটের রাস্তাই যদি আপনাকে আড়াই ঘণ্টায় পাড়ি দিতে হয় তাহলে কেমন লাগবে?

মতিঝিল থেকে শাহবাগের দূরত্ব সাড়ে তিন বা চার কিলোমিটার। আর এই রাস্তাটুকু যদি আপনাকে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টায় পাড়ি দিতে হয় তাহলে আপনার ভাবনাটা কেমন হবে? কিংবা মৎস্যভবন মোড় থেকে এক কিলোমিটার দূরত্বে থাকা শাহবাগ মোড় পার হতে যদি আপনাকে ট্রাফিকের ১৮টি সিগন্যাল অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে সেই সময় গাড়িতে বসে বসে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি সম্পর্কে আপনার ভাবনাগুলো কেমন হতে পারে? অথচ, প্রায় প্রতিটা দিন মতিঝিল থেকে অফিস ফেরৎ ক্লান্ত-শ্রান্ত হাজার হাজার মানুষকে এই ভয়ানক দুর্ভোগ পোহাতে পোহাতে ঘরে ফিরতে হচ্ছে।

শুধু এই রাস্তার কথাই বলি কেন, শাহবাগ থেকে সাইন্সল্যাব হয়ে ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, গাবতলী কিংবা সায়দাবাদ থেকে মালিবাগ হয়ে রামপুরা, বসুন্ধরা, উত্তরা অথবা সদরঘাট থেকে যেকোন দিকের যানবাহনেই আপনি চড়ে বসেন না কেন, একই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে করতেই আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছতে হবে। অর্থাৎ দিনের এক তৃতীয়াংশ বা অর্ধেকই আপনাকে রাস্তায় কাটিয়ে দিতে হচ্ছে।

এতে ফল কি দাঁড়াচ্ছে? মানুষের লক্ষ লক্ষ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন অসহনীয় যানজট মোকাবেলা করতে করতে মানুষের জীবনী শক্তি ক্ষয় হচ্ছে, রাস্তার তীব্র শব্দের মধ্যে থাকতে থাকতে শ্রবণশক্তি হারাচ্ছে, গাড়িতে বসে থাকতে থাকতে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সর্বোপরি কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে। ফলে দেশের সামগ্রিক উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

নানা সময়ে প্রকাশিত গবেষণা তথ্যমতে, প্রতিদিন প্রায়  দশমিক ১৬ মিলিয়ন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে শুধু যানজটের কারণে আরএর মধ্যে  দশমিক ২০ মিলিয়ন ঘণ্টা অর্থাৎ ৪০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে ব্যবসায়িক কর্মঘণ্টা ফলে যানজটের কারণে প্রতি বছরদেশের ২০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু কর্মঘণ্টা নষ্টের জন্য বছরে ক্ষতি হচ্ছে ১২ হাজার কোটিটাকাপরিবহন ব্যবসায় ক্ষতি  হাজার কোটি টাকাজ্বালানি অপচয় ৫৭৫ কোটি টাকাদুর্ঘটনাজনিত খরচ ৫০ কোটি টাকাএবং পরিবেশের ক্ষতি দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ গোটা দেশের অগ্রগতিকেই খামচি দিয়ে আটকে রেখেছে এ যানজট।

সরকার হয়তো বলবে, যানজট নিরসনের জন্যই তো বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে, মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, রাস্তা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে ইত্যাদি ইত্যাদি। হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, এসব বাস্তবায়ন হলেই যানজট কমে যাবে। হ্যাঁ, এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে যানজট কমবে এটা আমরাও মানছি। কিন্তু এটাও সত্য যে, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে যত বড় বড় প্রকল্পই বাস্তবায়ন হোক না কেন তাতে যানজট মুক্ত হবে না রাজধানী শহর।

অথচ, এমন একটি উপায় আছে যার মাধ্যমে কোনো টাকা-পয়সা খরচ করা ছাড়াই রাজধানীকে পুরোপুরি না হলেও প্রায় যানজট মুক্ত করে ফেলা সম্ভব। উপায়টি হচ্ছে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ। আপনি যদি ব্যস্ত সময়গুলোতে লক্ষ করেন, তাহলে দেখবেন রাস্তায় ১০টি গণপরিবহন থাকলে ১০০টি থাকে প্রাইভেট কার। আর এগুলোর প্রায় সবকটির ভেতর যাত্রী হিসেবে দেখবেন বড়জোর একজন বসে আছেন! কোনো কোনো গাড়িতে হয়তো চালকই আছেন, আর কেউ নেই। ২টা প্রাইভেট কার একটি বাসের জায়গা দখল করে আছে, অথচ ৩০টা প্রাইভেট কার মিলেও একটা বাসের সমান যাত্রী বহন করতে পারবে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের সীমিত রাস্তাকে কেন এ বিলাসী বাহন দিয়ে আটকে রাখছি? অতএব, রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে হলে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে।

বিআরটিএ ২০১৫ সালের জুন মাসের হিসাব অনুযায়ীরাজধানীতে মোট নিবন্ধিত বাস রয়েছে ২২ হাজার ৮১৪টি। অন্যদিকেপ্রাইভেটকারের সংখ্যা  লাখ ১৩ হাজার ৪৮৯টি।

কিন্তু চাইলেই তো আর রাস্তা থেকে প্রাইভেট কার তুলে দেওয়া যাবে না। তাই সিঙ্গাপুরের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। ছুটির দিনে যেকোন রাস্তায় প্রাইভেট কারগুলোর চলাচল উন্মুক্ত থাকলেও অফিস-ডেগুলোতে সকল রাস্তায় অবাদে প্রাইভেট কার চলাচল করতে দেওয়া যাবে না।তবে হ্যাঁ, কারো যদি যেতেই হয় তাহলে তাকে উচ্চ হারে ফি দিয়ে অফিস-ডেতে চলাচলের জন্য আলাদা লাইসেন্স নেওয়ার বিধান করতে হবে।তাহলে দেখা যাবে অতিরিক্ত লাইসেন্স ফি’র ভয়ে অনেকেই অফিস-ডেতে গাড়ি বের করবেন না। আর করলেও সরকারের কোষাগারে জমা পড়বে অতিরিক্ত অর্থ, যা দিয়ে গণপরিবহনকে উন্নত করলেই অভিজাতরাও তাতে চলাচল করতে স্বাচ্ছন্দ অনুভব করবেন।ফলে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে না থেকে আমাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী একটু এ বিষয়টার দিকে একটু নজর দিবেন কি? 

৫ বছরের শিশুর ধর্ষন আর তাদের মানসিকতা

By On 3:37:00 AM
একটি ছোট্ট ৫ বছরের বাচ্চাকে কিভাবে ধর্ষন করতে পারে কেউ? কিভাবে সম্ভব? ধর্ষনই কিভাবে করে? ৫ বছরের একটি ছোট্ট বাচ্চাকে দেখলে যেকোন পুরুষের পির্তৃত্ব জেগে উঠার কথা – পশুত্ব না! সেই ধর্ষনকারীর মানসিকতাটা কেমন? কি দিয়ে বানানো? তাকে ফাঁসি দিলেও কি তার এই কর্মের পূর্ন সাজা হবে? আমার তো মনে হয় না। তার উপর, কে জানি সেই ভিক্টিম শিশুটির ছবি ফেসবুকে দিয়ে পোস্ট দিয়ে শিশুটিকে আরো একবার ধর্ষন করেছিল। তাকেও তো ফাসিতে ঝুলাতে হবে। কয়েকবার করে। তাও তো তাদের পাপ মোচন হবে না! শিশুটির প্রজনন অঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলেছে সেই নরপশু। অস্ত্রপাচারও করা যাচ্ছে না।

সেই নরপশূর নাম সাইফুল ইসলাম। তাকে সাধারন ফাসিতে না ঝুলিয়ে হিংস্র কুমির ভর্তি পুকুরে জ্যান্ত ছেড়ে দেয়া হোক অথবা ক্ষুদার্থ বাঘের খাচায়। এরপর সরাসরি সম্প্রচার করা হোক দেশ ব্যাপী। পশুর পশুত্ব দেখানো দরকার। সেই মামলাম অন্য আসামী কিন্তু এখনও পলাতক! এদের বিনা বিচারে হত্যা করা হোক।

দেশে ইদানীং এধরনের মানসিকতার মানুষের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। বাড়ছে নারীদের উপর আক্রমন – না ছলে। খাদিজাকে কোপানোর মত ঘটনা বা শিশুটির ধর্ষনের মত ঘটনা অহ-রহ ঘটছে। এদের কিছু হয়তো মিডিয়ার সামনে আসছে বলে আমরা জানছি, কিন্তু বাকীগুলো? যে দেশে যৌন মানসিক বিকারগ্রস্ততার চর্চা করার জন্য ফেসবুকে গ্রুপে লক্ষ-মানুষ নিয়ে গ্রুপ থাকে, সে দেশে এধরনের অপরাধ বেড়ে যাওয়টাই মনে হয় স্বাভাবিক। DSU এর কথা মবে আছে তো তাই না, কিছুদিন আগে যা নিয়ে আমরা আন্দোলন করলাম আর গ্রেফতার করা হলো বিকারগ্রস্ত কিছু এডমিনদের। এরপর কিন্তু আর কোন আপডেট আসেনি। আরো কিছু এডমিন গ্রেপ্তার হওয়ার কথা থাকলেও এখনও হয়নি। এধরনের পাররভাটের মানুষের সংখ্যাও এখন অনেক। তো কিভাবে থাকবে নারী-শিশুরা নিরাপদে? ৫ বছরের একটা বাচ্চা মেয়ে দেখেও তাদের পশুত্ব জেগে ওঠে!

আমার মনে হয়, এখন সময় হয়েছে কঠিন কিছু পদক্ষেপ নেয়ার। এসব ধর্ষক, ইভ-টিজার, হামলাকারী, অনলাইন ইভ-টিজার, বিকারগ্রস্ত ফেসবুক পেজ বা গ্রুপ – এদের সবাইকে এক কাতারে এনে বিশেষ আইন করে গনহারে এদের নির্মুক করার। এদের শোধরানোর কিছু নেই। এদের শেষ করে ফেলতে হবে। এরা সমাজের ক্যান্সারের মত। ১৭ কোটি মানুষের দেশে এধরনের বিকারগ্রস্তগুলোকে ফেলে দিলে কিছু যায় আসবে না। বরং বাকী মানুষগুলোর নিরাপত্তা বাড়বে। দৃষ্টান্ত মূলক কিছু একটা করতে হবে। শুধু ফাসী না, এদের কঠিন কোন মৃত্যু দিতে। মারাত্মক কঠিন। আর সেই মৃত্যু যন্ত্রনা সবাইকে দেখাতে হবে। সবাইকে জানতে হবে নরপশু হলে তাদের শেষ পরিণতি কি হয়। এবার আসলেই সময় হয়েছে।

Wednesday, October 26, 2016

ফেক প্রোফাইল চিনবেন কী যেভাবে?

By On 10:19:00 PM
ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, কিন্তু ফেসবুকে সারাদিনে একবারও লগ ইন করেন না, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। ফেসবুক প্রোফাইলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ছাড়াও থাকে আপনার ও আপনার প্রিয়জনদের ছবি। বন্ধুর ছদ্মবেশে কেউ আপনার প্রোফাইলে ঢুকে পড়ে, তাহলে সেই তথ্য এবং ছবি ব্যবহার করে আপনাকে হেনস্থার মুখে ফেলে দিতেই পারে। কী করে চিনে নেবেন ফেক প্রোফাইল ।

❏ সাধারণ ভাবে ফেক প্রোফাইলে ব্যবহার করা হয় কোনও সেলেব্রিটি কিংবা নানা প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি। কখনও বা ব্যবহার করা হয়। কখনও আবার ব্যবহার করা হয়, নানা মজাদার উদ্ধৃতি। সাধারণভাবে বলা যেতে পারে, যে সমস্ত প্রোফাইলের প্রোফাইল পিকচার অ্যালবামে একটি নিজস্ব ছবি থাকে না, সেগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখা যেতেই পারে।

❏ ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসলে লক্ষ্য রাখুন প্রোফাইল মালিকের স্কুল, কলেজ কিংবা অফিসের নামের দিকে। ফেক প্রোফাইলের মালিকরা সাধারণত এই সমস্ত তথ্যগুলো এড়িয়ে যায়। খেয়াল করুন, সন্দেহভাজন প্রোফাইলের মালিকের সঙ্গে তার সহপাঠী বা সহকর্মীদের কোনও ছবি আছে কি না।

❏ টাইমলাইনে গিয়ে পোস্টগুলো খেয়াল করুন। তাতে কারা কমেন্ট করছেন, সেটাও লক্ষ্য রাখুন। তাদের প্রোফাইল কতটা বিশ্বাসযোগ্য সেটাও যাচাই করে নিন। তাঁদের সঙ্গে প্রোফাইলের মালিকের কেমন সম্পর্ক, বা তারা কী সুবাদে একে অপরকে চেনেন, সেটা বোঝার চেষ্টা করুন।

❏ সন্দেহজনক মনে হলেই, ওই প্রোফাইলের মালিকের সঙ্গে যারা ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ড’ আছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রশ্ন করুন কেউ এই প্রোফাইলের মালিককে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন কি না। না চিনলে গন্ধটা সত্যিই সন্দেহজনক।

❏ যদি দেখেন, সন্দেহভাজন প্রোফাইলটির প্রোফাইল পিকচার কোনও তারকার নয়, অন্য কোনও সাধারণ ব্যক্তির, তাহলে শরণাপণ্ন হন SPAMfighter Facebook page-এর। সেখানে গিয়ে প্রোফাইলটি রিপোর্ট করুন।

❏ সঙ্গে সাহায্য নিতে পারেন গুগল ইমেজ সার্চের। সন্দেহভাজন প্রোফাইলের প্রোফাইল পিকচারটি ডাউনলোড করে গুগল সার্চ করতে পারেন। যদি অন্য কারও সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে তৎক্ষণাৎ বন্ধুত্বের অনুরোধ নাকচ করুন।

মোবাইলে ব্লগিং বিরাম্বনা

By On 10:17:00 PM
ছবি : গুগল থেকে নেওয়া।
ব্লগের সাথে আমার পরিচিয় খুব বেশী দিন নয়। ২০১১ইং ভাগ্যক্রমে একটা ডেক্সটপ ব্যাবহার করার সুযোগ হয়। কম্পিউটারের সাথে পরিচিত হয়েছিলাম ২০০৪ইং । কারও হাত ধরে কিছু শেখার সুযোগ হয় নাই নিজে নিজে যতটা সম্ভব চলতে শিখেছি প্রযুক্তির সাথে সাথে। 

হলফ করে বলতে পারি, আমার চৌদ্দগুস্টিতে কেউ নেই যে ব্লগিং করে। প্রযুক্তি থেকে কতটা দূরে থাকা সমাজের মানুষ আমি অনুমান করা দুষ্কর ! আমি সৌভাগ্যক্রমে ২০০৯ থেকে মোবাইলে নেট উইজ করি নিজে নিজেই, নেট বলতে গুগল দিয়ে শুরু । কোন অজানা কিছু জানতে মন চাইলেই গুগলে খোঁজ করি, জানতে পারি অনেক অজানা তথ্য । মনে পরে ইন্টারনেট সম্পর্কে একটা বই পড়ে কিছুটা ধারনা নিয়ে শুরু করেছিলাম। কঠিন বাস্তবাতার কারনে সেই পথ চলার গতি কচ্ছপ গতি ছাড়তে পারে নাই। 

গুগল থেকেই ব্লগের সন্ধান পাই ! নিজে নিজেই শিখে যাই অনেক কিছুই। কৌতুহল নিয়ে কিছু না বুঝেই চলা শুরু ব্লগের সাথে, ভিজিটর হয়েই রইলাম কয়েক বছর, তবে নিয়মিত হতে পারি নাই বাস্তবাতার কারনে। আমাবশ্যার চাঁদ হয়ে মাঝে মাঝে ঢু-মারতাম ব্লগে। খাবার টাকা থেকে টাকা বাঁচিয়ে এমবি কিনে কতই আর ইন্টারনেটে থাকা যায় ! 

কেটে গেল অনেক দিন , প্রায় ১ যুগ সময় যেন খুব দ্রুতই চলে গেল । ফেসবুকে জনপ্রিয় যখন সকল আবাল বাঙ্গালী । আমি ফেবু ছেড়ে ব্লগে নিয়মিত হওয়ায় প্রত্যয়ে কয়েকটা ব্লগে একাউন্ট করলাম এবং নিজেই একটা ব্লগ খুলে ফেল্লাম । এই পরিবর্তন ১ দিনেই নয় নানান চড়াই-উৎরাই পার হয়ে এ পর্যন্ত এসেও আটকে আছি বাস্তবাতার চিপায়।

যারা শুধুমাত্র মোবাইলে ব্লগিং করেন তারা নিশ্চয় আমার লেখার শিরোনামেই ব্যাথিত হয়েছেন। কেন যেন আমার খুব জানতে ইচ্ছে হলো আমার মতো হতভাগা আরও ক'জন আছেন ব্লগে ? থাকলে কমেন্ট করার অনুরোধ রইলো। ওয়াই-ফাই & থ্রিজি নেটওয়ার্ক ব্যাবহার না করে আমার মতো টাকা খরচ করে কচ্ছপ গতির নেট যারা ব্যাবহার করেন , আওয়াজ দিন। সামুতে লগইন & কমেন্ট ঝামেলা ও কম নয় ! দীর্ঘ দিন সামুতে লগইন করতে না পারার কষ্টেই এই লেখা। 

একদিন সময় বদলাবে , সেই প্রত্যাশায় । বেঁচে রব যতদিন সামুর সাথে থাকবো ততদিন !!!
সকল ব্লগারদের প্রতি অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।