সব পশুর দেহেই রয়েছে হাড়। জবাইয়ের পর সাধারণ এর বেশিরভাগই অকেজো ভেবে ফেলে দেওয়া হয় ভাগাড়ে। কিন্তু না, গরু কিংবা মহিষ যাই বলি না কে, প্রত্যেক পশুর হাড় দিয়েই তৈরি করা যায় বাহারি পণ্য। চীন এবং থাইল্যান্ডে এর প্রচুর চাহিদাও রয়েছে।তাই পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাংলাদেশের নতুন রপ্তানি পণ্য হয়ে উঠতে পারে পশুর হাড় কিংবা হাড় থেকে তৈরি পণ্য।
জবাইয়ের পর একটি গরুরআকারভেদে ১৫ থেকে ২৫কেজি হাড় ফেলে দেওয়া হয়।অথচ এসব হাড় সংগ্রহ করেপ্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লাখটাকা ব্যবসা হয়। এই হাড়রপ্তানিতে ব্যবসায়ীরাপৃষ্ঠপোষকতা পেলে বছরে শতকেটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রাঅর্জন করা সম্ভব। চীন ওথাইল্যান্ডে গরুর হাড়ের প্রচুরচাহিদা রয়েছে। আন্তর্জাতিকবাজারে হাড়ের চাহিদা দিনদিন বাড়ছে।
হাড় দিয়ে ওষুধ, সিরামিক, পণ্যসামগ্রী, বোতাম ও ঘর সাজানো উপকরণ তৈরি করা হয়। কিন্তু অসচেতনতা ও অবহেলারকারণেই কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। অথচ কোরবানিসহ সারা বছর জবাই করা গরুর হাড়ের মূল্যপ্রায় ১৪০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও জার্মানি ও ইতালিতে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পশুর শিং সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
মূলত কোরবানির ঈদে জবাইকৃত পশুর চামড়া ও মাংস ছাড়া অন্যান্য অংশ নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামান নাকোরবানিদাতারা। তাই গরু বা খাসি জবাইয়ের পর অবশিষ্টাংশ যত্রতত্র ফেলে দেওয়া হয় অযত্ন–অবহেলায়। এর ফলে একদিকেযেমন পরিবেশ দূষণ হয়। একই সঙ্গে দেশ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ সব পণ্যের সিংহভাগই রপ্তানি হচ্ছে প্রধানত চীন, হংকং, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে। ইতোমধ্যে গরুর নাড়িভুঁড়ি রপ্তানি করছেনএমন রপ্তানিকারকদের সংখ্যাও বাড়ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লোক ঠিক করে বছর জুড়েই তারা গরুর নাড়িভুঁড়ি সংগ্রহকরে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছেন। কোরবানির ঈদের সময় সংগ্রহ করা মোট চাহিদার এক তৃতীয়াংশ। তারপরপ্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে নাড়িভুঁড়ি থেকে চর্বি বের করে ফেলা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে এখন মাসে গড়ে ১৫টি কনটেইনারগরু মহিষের নাড়িভুঁড়ি (ওমাসম) রপ্তানি হচ্ছে। এক সময় উচ্ছিষ্ট হিসেবে গরু মহিষের নাড়িভুঁড়ি খাল, নদীনালা, ডোবায় ফেলেদেওয়া হতো। এক টন ( এক হাজার কেজি) প্রক্রিয়াজাত করার পর ৭০০ কেজি ওমাসম পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ ওমাসমরপ্তানির বাজার রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। একটু সচেতন এবং সক্রিয় হলেই সেই বাজারটা ধরা সম্ভব। এতে করে বৈদেশিকমুদ্রা অর্জন ও পরিবেশ দূষণ রোধ–দুই দিক থেকেই লাভবান হওয়া যাবে। ওমাসম দিয়ে উন্নতমানের স্যুপ ও সালাদ তৈরি হয়এবং তা চীনাদের কাছে বেশ জনপ্রিয় খাবার বলে বিবেচিত। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ছাড়াও এখন ইউরোপেও ওমাসম রপ্তানিরউদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪–১৫ অর্থবছরে ১১৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ওমাসম রপ্তানি হয়েছিল। তবেওমাসম রপ্তানিকারকদের সংগঠন থেকে দাবি করা হয়েছে ২০১৫–২০১৬ অর্থবছরে তা ইতিমধ্যেই ১৫০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে তা আরো বাড়বে।
অতএব, শুধু হাড় নয়, জবাইকৃত পশুর কোনো কিছুই এখন আর ফেলনা নয়। প্রয়োজন শুধু সচেতনতা এবং কার্যকর উদ্যোগ।


No comments:
Post a Comment