Enter your keyword

বিশ্বের প্রতি প্রন্তরে বাংলার মুখ

Thursday, November 3, 2016

এবার আসছে আরও দ্রুত গতির ইন্টারনেট

By On 4:47:00 AM
দেশে ইন্টারনেটের দুর্বল গতি নিয়ে আমাদের তরুণ উদ্যোক্তা বিশেষ করে অনলাইন কেন্দ্রিক প্রফেশনালদের আক্ষেপ দীর্ঘদিনের। কারণ নেটের স্পিডের দুর্বলতার কারণে অনেক সম্ভাবনাকেই কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। ফলে হতাশা ঘিরে ধরেছিল তাদের। তবে তরুণদের সে আক্ষেপ আর থাকছে না। দেশে আসছে দ্রুত গতির নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের নিশ্চয়তা।

খবরে বলা হয়েছে, দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে ১ হাজার ৫শ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সুবিধাসহ নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট নিয়ে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে গোটা দেশ। কক্সবাজারে প্রথম স্থাপিত সাবমেরিন স্টেশনের চেয়ে আটগুণ ক্ষমতাসম্পন্ন হবে বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নির্মাণাধীন এই সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি। এটি চালু হলে বরিশাল বিভাগসহ সারা দেশের মানুষ দ্রুতগতির নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পাবেন। পটুয়াখালীর কুয়াকাটার মাইটভাঙ্গা এলাকায় প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করে অতিশীঘ্রই চালু করা হবে স্টেশনটি।

সাবমেরিন কেবল টেলিযোগাযোগ বিভাগের আঞ্চলিক প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অন্তত সাড়ে পাঁচ কোটি। ক্রমেই এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে কক্সবাজারে একটি মাত্র সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু এ সাবমেরিন স্টেশনটির ক্যাবল (তার) লাইন কাটা পড়লে নেটওয়ার্ক সরবরাহের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় গ্রাহকরা প্রায়ই চরম দুর্ভোগের শিকার হন। পটুয়াখালীর ল্যান্ডিং স্টেশনটি চালু হলে গ্রাহকদের আর এ দুর্ভোগে পড়তে হবে না। এটি চালু হলে গ্রাহকরা খুব সহজেই দ্রুত গতিসম্পন্ন নিরবচ্ছিন্ন নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন।

কুয়াকাটার লতাচাপলি ইউনিয়নের আমখোলা গ্রামে ২০১৩ সালের শেষের দিকে প্রায় ১০ একর জমির ওপর ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে সাগরের তলদেশ দিয়ে ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ২৫ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল লাইনের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে আসা সঞ্চালন লাইন সংযুক্তির জন্য ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কুয়াকাটার স্টেশন থেকে মাত্র সাড়ে ৯ কিলোমিটার দূরত্বে উপকূলের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগরে আসা লাইনটির সংযোগ স্থাপনের কাজ শেষ করেই চালু করা হবে দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন স্টেশনটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের নভেম্বর মাসে সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনটি চালু করার সিদ্ধান্ত নিলেও ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমদিকে এটি চালু করা হতে পারে। কারণ বর্ষা মৌসুমে কেবল সংযোগের চূড়ান্ত কাজ শুরু করার পর বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা বন্ধ রাখা হয়। বাকি কাজ নভেম্বরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন করা হবে।

প্রকল্পটি চালু হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্য প্রযুক্তির উন্নতি সাধনের পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে। সেই সঙ্গে এ খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব্ব আদায়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ বন্যপ্রাণী হারিয়ে যাবে

By On 4:45:00 AM
পরিবেশবাদী সংগঠন ওয়ার্ল্ড জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডন এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের এক যৌথ গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্বে গত সাড়ে চার দশকে বন্যপ্রাণীর সংখ্যা ৫৮ শতাংশ কমেছে। প্রতিবছর কমার পরিমাণ ২ শতাংশ, এ হারে কমতেথাকলে ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বের দুই–তৃতীয়াংশ বন্যপ্রাণী হারিয়ে যাবে।

তিন হাজার ৭০০ ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির পাখি, মাছ, স্তন্যপায়ী প্রাণী, উভচর ও সরীসৃপের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, ১৯৭০সালের পর থেকে বিশ্বে ৫৮ শতাংশ বন্যপ্রাণী হারিয়ে গেছে। এর মধ্যে নদ–নদী, হ্রদ ও জলাভূমিতে থাকা জীবজন্তুই বেশিপরিমাণে নিশ্চিহ্ন হয়েছে। এ জন্য গবেষকরা মানবিক তত্পরতা বৃদ্ধি, আবাসস্থল ধ্বংস, বন্যপ্রাণী ব্যবসা, দূষণ ও জলবায়ুপরিবর্তনের মতো কারণগুলোকে দায়ী করেছেন।

তাছাড়া, পৃথিবীতে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ যে হারে বাড়ছে তার প্রভাবেও পশুদের পক্ষে সুস্থভাবে বেঁচে থাকাটা দায় হয়ে উঠেছে। মাত্র পঞ্চাশ বছরের মধ্যেই পৃথিবী থেকে ৪১ শতাংশ মানবেতর স্তন্যপায়ী, ৭ শতাংশ পাখি, ৪৬ শতাংশ সরীসৃপ, ৫৭ শতাংশ উভচর এবং ৭০ শতাংশ জলজ প্রাণী, বিশেষ করে মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, একই সময়ের মধ্যে বনাঞ্চলের পরিমাণও অনেক কমেছে। আগে যেখানে পৃথিবীর ৩৩ শতাংশ ভূখণ্ডে ছিল বনভূমি, এখন তা কমে দাড়িয়েছে ২৩ শতাংশে। জীবজন্তু বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার এটিও অন্যতম প্রধান কারণ।

তাছাড়া, বন্যপ্রাণী বিশেষ করে হরিণ, বাঘ, সিংহ, হাতিসহ অন্যান্য প্রাণীর চামড়া, দাঁত, শিং ইত্যাদি অঙ্গ–প্রত্যঙ্গের চাহিদাথাকায় বিশ্বব্যাপী এর বাণিজ্যে প্রসার ঘটেছে। অবৈধ পাচার ও বেআইনি শিকারের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার ফলে দ্রুত হারে হ্রাসপাচ্ছে এসব মূল্যবান প্রাণীর সংখ্যা। বিপন্ন হচ্ছে এদের অস্তিত্ব।

যেসব দেশ থেকে দ্রুত হারে বন্যপ্রাণী হ্রাস পাচ্ছে বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি। এক সময় ঢাকার বন এলাকায় ছিল বন্যহাতিরআনাগোনা। ঢাকার বনেও ছিল বাঘসহ নানা জাতীয় প্রাণী। আজ তা ইতিহাসের অংশ হয়ে পড়েছে। বনাঞ্চলের পরিমাণ হ্রাসপাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য বন্যপ্রাণী উধাও হয়ে গেছে। দেশের নদ–নদী থেকেও উধাও হতে চলেছে মিঠা পানির কুমির,ডলফিনসহ নানা প্রাণী। স্থলভাগে কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে বন্যপ্রাণী হত্যার ঘটনা যেমন শূন্যতার সৃষ্টি করেছে তেমনি নদী দূষণেরকারণে অনেক জলজ প্রাণী অস্তিত্ব হারাতে চলেছে।  অথচ, বন ও বন্যপ্রাণী পরিবেশ ও প্রতিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং মানুষেরঅস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য।

তাই আসুন, বন্য প্রাণীদের পাশে দাঁড়াই। কেননা, আমাদের দেশের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে হলে বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণে এখনই সচেতন হতে হবে। তা না হলে বন ও বন্য প্রাণী বিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি বিন্ন হবো আমরা মানুষরাও।