আমি অপার হয়ে বসে আছি
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।
আমি একা রইলাম ঘাটে
ভানু সে বসিল পাটে-
(আমি) তোমা বিনে ঘোর সংকটে
না দেখি উপায়।।
নাই আমার ভজন-সাধন
চিরদিন কুপথে গমন-
নাম শুনেছি পতিত-পাবনতাইতে দিই দোহাই।।
অগতির না দিলে গতি ঐ নামে রবে অখ্যাতি-
লালন কয়, অকুলের পতি কে বলবে তোমায়।।
গানটি কার, সেটা মনে পড়ে? হ্যাঁ, লালনের গান। গানই যার ধর্ম ছিল, গানই যার কর্ম ছিল, সেই লালনের গান। কিন্তু এ কথা তো সবাই জানেন, তাহলে এখানে নতুন করে বলার কি হলো? তাই না?
না, নতুন করে বলার কিছু নেই। তবু, বলছি কারণ আজ বাউল সম্রাট লালনের প্রয়ান দিবস।
১৭ অক্টোবর, ১৮৯০ ধরাদাম থেকে বিদায় নিয়েছিলেন লালন, বাউল সম্রাট। একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী,সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক, অসংখ্য অসাধারণ গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। যিনি ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ,মহাত্মা লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত। লালনকে বাউল গানের অগ্রদূতদের অন্যতম একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারগানের মাধ্যমেই উনিশ শতকে বাউল গান বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাকে ‘বাউল সম্রাট’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েথাকে।
ও হে দয়াময়,
পারে লয়ে যাও আমায়।।
আমি একা রইলাম ঘাটে
ভানু সে বসিল পাটে-
(আমি) তোমা বিনে ঘোর সংকটে
না দেখি উপায়।।
নাই আমার ভজন-সাধন
চিরদিন কুপথে গমন-
নাম শুনেছি পতিত-পাবনতাইতে দিই দোহাই।।
অগতির না দিলে গতি ঐ নামে রবে অখ্যাতি-
লালন কয়, অকুলের পতি কে বলবে তোমায়।।
গানটি কার, সেটা মনে পড়ে? হ্যাঁ, লালনের গান। গানই যার ধর্ম ছিল, গানই যার কর্ম ছিল, সেই লালনের গান। কিন্তু এ কথা তো সবাই জানেন, তাহলে এখানে নতুন করে বলার কি হলো? তাই না?
না, নতুন করে বলার কিছু নেই। তবু, বলছি কারণ আজ বাউল সম্রাট লালনের প্রয়ান দিবস।
১৭ অক্টোবর, ১৮৯০ ধরাদাম থেকে বিদায় নিয়েছিলেন লালন, বাউল সম্রাট। একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী,সমাজ সংস্কারক, দার্শনিক, অসংখ্য অসাধারণ গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক। যিনি ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ,মহাত্মা লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত। লালনকে বাউল গানের অগ্রদূতদের অন্যতম একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তারগানের মাধ্যমেই উনিশ শতকে বাউল গান বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। তাকে ‘বাউল সম্রাট’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েথাকে।
লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী, যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সব রকম জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থানদিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক এই মনোভাব থেকেই তিনি তার গান রচনা করেছেন। তার গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছেরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুলের মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে। তারগানগুলো মূলত বাউল গান হলেও বাউল সম্প্রদায় ছাড়াও যুগে যুগে বহু সংগীতশিল্পীর কণ্ঠে লালনের এই গানসমূহ উচ্চারিতহয়েছে। গান্ধীরও ২৫ বছর আগে, ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল।
ধর্ম আর জাতভেদ নিয়েই আজকের দুনিয়ার যত হানাহানির মূল। সম্ভবত এটা লালনের যুগেও ছিল, তাই তো সাঁইজির কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছিল,
‘‘এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে।
যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান
জাতি গোত্র নাহি রবে।”
লালন দ্বিধাহীন কণ্ঠেই উচ্চারণ করেছেন,
“জাত গেল জাত গেল বলে
একি আজব কারখানা
সত্য কাজে কেউ নয় রাজিসব দেখি তা না না না।গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়
তাতে ধর্মের কী ক্ষতি হয়
লালন বলে জাত কারে কয়
এই ভ্রমও তো গেল না।”
এমন বাণী উচ্চারণের মতো হৃদয় আছে কি আর ভবে! নাকি আসবে আর কেহ!! জানি না তো তাই, আমি অপার হয়ে বসে আছি, নতুন কারো অপেক্ষায়।


No comments:
Post a Comment