Enter your keyword

বিশ্বের প্রতি প্রন্তরে বাংলার মুখ

Sunday, September 25, 2016

বোমা গণনা চলছে!!!!

ইউসুফ হায়দার

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা হিসাব-কিতাব। পাকিস্তানের পক্ষে চীন, সৌদি আরব, ইরানের শক্তিশালী অবস্থানের বিপরীতে ভারতের পক্ষে আমেরিকার পার্লামেন্টে পাকিস্তানকে জঙ্গি রাষ্ট্র ঘোষণার বিল সার্বিক বিবেচনায় অস্ত্রের বাজারকে গরম করে তুলছে। তবে ভারতের বহু পুরানো বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া এই উত্তেজনার মধ্যেও পাকিস্তানের সাথে যৌথ মহড়ায় নেমে পড়ায় পরিস্থিতি বেশ ঘোলাটে হয়ে যাচ্ছে।

এই উত্তপ্ত অবস্থার অবসানে যাদের ভূমিকা রাখার কথা ছিল সেই বিশ্ব মোড়লরাই যখন পক্ষ নিতে শুরু করেছে, তখন ধরেই নেওয়া যায় যেকোনভাবেই হোক এখানে একটা বড় ধরনের শক্তির মহড়া হয়ে যাবে।তাই কার হাতে কি আছে সেই নিয়ে চলছে বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম ও সংস্থার হিসাব-নিকাষ। আর পাকিস্তান-ভারত উভয়েই যেহেতু পারমাণবিক শক্তিধর, সে কারণে সকলের প্রথম দৃষ্টি পারমাণবিক বোমার সংখ্যা ও তার ব্যবহার উপযোগিতার দিকেই।

বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাবে ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের বোমার সংখ্যা বেশি, এমনকি শক্তির দিক থেকেও বেশি। ভারতের হাতে মজুদ পারমাণবিক বোমার সংখ্যা ৯০ থেকে ১০০টি এবং পাকিস্তানের আছে ১০০ থেকে ১২০টি। তবে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে পাকিস্তানের বোমার সংখ্যা আরও বেশি। তবে পারমাণবিক বোমার সংখ্যা বেশি হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে দুর্বল অবস্থানে আছে পাকিস্তান।

স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইন্সটিটিউট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তানসহ বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো তাদের সক্ষমতা বাড়াতে উদ্বেগজনক মাত্রায় তৎপর রয়েছে। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইন্সটিটিউট (এসআইপিআরআই) বা সিপ্রি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, পারমাণবিক অস্ত্রে সক্ষম ৯টি দেশ, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল ও উত্তর কোরিয়া আসলে ভেতরে ভেতরে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার কর্মসূচিকে সমৃদ্ধই করছে৷

অন্যদিকে জার্মান সংবাদ মাধ্যম ডয়েচেভেলে কার হাতে ক’টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে তার হিসাব দিয়ে বলেছে, এই মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি আছে রাশিয়ার হাতে। দেশটিতে এ ধরনের বোমার সংখ্যা সাড়ে সাত হাজারের বেশি৷ ১৯৪৯ সালে সেদেশ প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা করেছিল৷ দ্বিতীয় স্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক বোমা বানিয়েছে এবং একমাত্র দেশ যারা এটা যুদ্ধে ব্যবহারও করেছে৷ দেশটির এখন সাত হাজারের বেশি পারমাণবিক বোমা রয়েছে৷

এর পরেই আছে ফ্রান্সের অবস্থান। তাদের কাছে পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে তিনশ’র মতো৷ এগুলোর অধিকাংশই রয়েছে সাবমেরিনে৷ দেশটির অন্তত একটি সাবমেরিন সবসময় পারমাণবিক বোমা নিয়ে টহল দেয়৷ পিছিয়ে নেই চীনও। আড়াইশ’র মতো পারমাণবিক বোমা আছে তাদের৷ রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় সংখ্যাটা কম হলেও দেশটি ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়াচ্ছে৷ স্থল, আকাশ বা সমুদ্রপথে এসব বোমা ছোঁড়া সম্ভব৷

দুইশ’র বেশি পারমাণবিক বোমা রয়েছে যুক্তরাজ্যের কাছে৷ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এই দেশটি ১৯৫২ সালে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়৷ ইতোমধ্যে তিনবার প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে পাকিস্তান৷ দেশটির আছে শতাধিক আণবিক বোমা৷ সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক বোমার সংখ্যা বাড়িয়েছে দেশটি৷ অনেকে আশঙ্কা করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে দেশটির লড়াই কোন এক সময় পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে৷ অন্যদিকে ভারত প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৭৪ সালে৷ দেশটির কাছে নব্বইটির বেশি আণবিক বোমা রয়েছে৷


ইসরায়েল অবশ্য নিজের দেশের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তেমন কিছু জনসমক্ষে প্রকাশ করে না৷ দেশটির আশিটির মতো পারমাণবিক ‘ওয়ারহেড’ আছে বলে ধারণা করা হতো। তবে সম্প্রতি সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েলের ইমেল হ্যাক করে হ্যাকাররা যে তথ্য পেয়েছে তা ভয়াবহ। সেখানে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তাদের ২০০টি পারমাণবিক অস্ত্রের সবগুলোই ইরানের দিকে তাক করে রেখেছে।

সব চেয়ে কম পারমাণবিক বোমা রয়েছে উত্তর কোরিয়ার হাতে।এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের কাছে দশটিরও কম বোমা থাকার কথা জানা গেছে।

এখানেই শেষ নয়, ইতোমধ্যে জাপান, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশ পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকার তাদেরও রয়েছে বলে জানিয়েছে।


কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত পারমাণবিক অস্ত্র এসব দেশ ব্যবহার করবে কার বিরুদ্ধে? মানুষের বিরুদ্ধে?আরও একটি প্রশ্ন, বিশ্বের ৬শ’ কোটি মানুষকে মারতে হলে, কিংবা পুরো বিশ্বকে ধ্বংস করতে হলে কি এত অস্ত্রের দরকার আছে?

No comments:

Post a Comment