Enter your keyword

বিশ্বের প্রতি প্রন্তরে বাংলার মুখ

Sunday, September 11, 2016

বাংলাদেশের সেরা দৈনিক পত্রিকা কোনটি?


এই মুহুর্তে বাংলাদেশে একটা জিনিষের অভাব নেই – সেটি হলো অনলাইন পত্রিকা। অবস্থা এখন এমন হ অয়ে দাড়িয়েছে যে কোন রকমে একটা সাইট দাঁড় করাতে পারলেই অনলাইন পত্রিকা হয়ে যাচ্ছে। আগে থেকে বলে রাখি এই ফাকে – আমরা কোন অনলাইন পত্রিকা না বা তার ধারেকাছেও নেই। মাঝে মাঝে কিছু কেইস স্টাডি মূলক পোস্ট দেই আর দেশের জন্য দেশপ্রেমমূলক কিছু আর্টিকেল বা অ্যানালিসিস পাবলিশ করি। এটি আমাদের কোন ধরনের ব্যবসায়িক অংশও না এবং কোন বিজ্ঞাপনও নেই।

যাই হোক, ফিরে আসি মূল প্রসংগে। অনলাইন নিউজের ঠেলায় এখন সামাজিক মাধ্যমের ফিডে টিকাই বড় দায়। তবে একটা মজার ব্যাপার খেয়াল করি প্রায় সময়। নতুন কোন খবর হলে সেটি নিয়ে যখন একটি পত্রিকা রিপোর্ট করে, তখন দেখা যায় আরও হাজার হাজার পত্রিকায় একই খবর। একই খবর থাকাটা দোষের কিছু না, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো একেবারে প্রতিটি শব্দ, লাইন, লেখার ধরন – সবকিছু আইডেন্টিক্যাল। বুঝাই যায়, এক জায়গা থেকে সব কপি করা হয়েছে। একই খবর আরও ১০০ টা সাইট কপি করে লাভটা কি? এরপর, কোন পত্রিকাটা যে আসল পত্রিকা সেটা বোঝাও বড় দায়। ২/১ টা অনলাইন পত্রিকা বাদ দিলে, বেশীরভাগের সাইট লিঙ্কে ঢুকার পর দেখা যায় ১০১ টা পপ-আপ মেসেজ আর বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনের ফাকে ফাকে মূল খবরটা খুজে বের করতে হয়। ভুলে যদি সাইটের কোন খালি জায়গায় ক্লিক পরে তাহলে আজেবাজে লিঙ্কে ঢুকে যায়। বিজ্ঞাপনের জন্য এসব করে আর এসমস্ত লিঙ্কগুলোতে বেশীরভাগ সময় ভাইরাস বা ট্রোজান থাকে যা আপনার কম্পিউটার এবং তথ্যের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুকি!

ছাপানো পত্রিকাগুলো নিয়ে খুব একটা বিশেষ কিছু বলার নেই – অন্তত বোঝা যায় তারা আসল পত্রিকা। ভেতরের খবর যাই থাকুক না কেন। মূল সমস্যা এই নব্য গজিয়ে উঠা অনলাইন পত্রিকাগুলো নিয়ে। অথেনটিসিটি বূঝার কোন উপায় নেই। আর ক্লিক রেট বাড়ানোর জন্য এসব পত্রিকাগুলোর নিউজ টাইটেল হয় একটা আর খবর থাকে আরেকটা। এটাকে ক্লিক-বেট বলে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন থাকা দোষের কিছু না। তাদেরও তো চলতে হবে, কিন্তু এতটাই বেশী যে অসহনীয় পর্যায়ে চলে গেছে এখন। আর ভুয়া খবরে চারিদিকে সয়লাব!আর উদ্ভট সব নিউজ টাইটেল বা আর্টিকেল টাইটেল দেখে মানুষও ক্লিক করে ভিজিট করছে সেসব সাইটগুলো। সরকারের বেশ কিছু নীতিমালা নতুন করলেও এগুলোর আদৌ কোন কার্যকারিতা আছে বলে মনে হয় না। মোটামুটি একটা ২০-৩০ হাজারের ফেসবুক পেজ বানিয়ে আর ওয়ার্ডপ্রেসে একটা সাইট বানিয়ে যেকোনকিছুর শেষে ২৪ লাগিয়ে একটা ডট কম – বেস হয়ে গেলো আপনার অনলাইন পত্রিকা। এরপর অন্যান্য সাইট থেকে শুধু কপি পেস্ট করলেই হলো – আর কি লাগে!

প্রথমদিকে অনলাইন পত্রিকা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এখনও যে নেই তা না কিন্তু মানুষের গ্রহনযোগ্যতা একটু হলেও কমে যাচ্ছে এসব কারনে। আর ইদানীং এসব তথাকথিত অনলাইন পত্রিকাগুলোর আজেবাজে আর্টিকেল পোস্ট করাটা একটা নিয়মে দাড়িয়েছে। যেমন “কোন ১০ ধরনের মেয়েরা যৌন সঙ্গমে এক্সপার্ট” বা “কোন ৫ ধরনের পুরুষকে বিয়ে করবেন” ইত্যাদি। এগুলোতো তাও এখন নরমাল হয়ে দাড়িয়েছে। এখন তো “যৌন কেলেঙ্গকারী” বা “কাপড় খুলে ফেললেন এক নায়িকা” টাইপের নিউজ টাইটেল ছাড়া কিছুই হিট করে না। মানুষও ইচ্ছেমত ক্লিক করে এসব সাইটে ঢুকে। কারন ডিমান্ড যদি না থাকে তাহলে এরা এসব করত না। একটা উপায়ে কিন্তু এসব তথাকথিত পত্রিকাগুলো বড় কোন ধরনের সামাজিক অবক্ষয়েরই কারন হচ্ছে। সেই সাথে বাড়ছে পাইরেসীর মত অপরাধ। মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটছে।

আসলে কোন পত্রিকাটা ফলো করব এটা নিয়েই অনেক কনফিউশন কাজ করে। কাউকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না আবার নিউজ আপডেটও পেতে ইচ্ছা করে। কোন পত্রিকা হলুদ সাংবাদিকতায় আছন্ন আবার কোন পত্রিকা বাজে খবরে শেষ আবার কোথাও ক্লিক-বেট। আসলে কোনটা অথেনটিক। কাকে বিশ্বাস করা যায়! জাতীয় পত্রিকা বলেন আর অনলাইন – সবখানেই কোন না কোন ভেজাল। তাই ঠিক করলাম একটা সার্ভে বা ইউজার ভোট হয়ে যাক। আপনাদের কাছ থেকেই জিজ্ঞেস করে নেই, কোন পত্রিকা আসলে ভাল হতে পারে। তাই নীচে একটা ভোটিং অপশন জুড়ে দিলাম। আপনারাই বলে দিন কোন পত্রিকা ভাল। যারা ফেসবুক থেকে স্মার্টফোন ব্যবহার করে সরাসরি এটি পড়ছেন, তারা দয়া করে নিউজ agobangla.blogspot.com এ গিয়ে ভোট দিন। আর যারা ডেস্কটপ থেকে এসেছেন তারা নীচেই ভোট দিতে পারেন।

No comments:

Post a Comment