Enter your keyword

বিশ্বের প্রতি প্রন্তরে বাংলার মুখ

Thursday, January 26, 2017

একটু ঘুরে আসি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড থেকে

By On 9:37:00 AM
বিচ্ছিন্নতার মাঝে লুকিয়ে থাকা এক অবিচ্ছিন্নতা, একতা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এ কেমন ক্যাম্পাস…সবকিছু আলাদা আলাদা ছন্নছাড়া! কিন্তু না, একটু কাছে গেলেই পাবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মিলিত সত্ত্বার ছোঁয়া।
সন্ত্রাসবিরোধী স্মারক রাজু ভাস্কর্য

টিএসসির সড়ক দ্বীপে চারদিক ঘিরে থাকে অনেক প্রাণোচ্ছলতা, ভুল শব্দে লিখে রাখা সাইনবোর্ড নিয়ে পানিপুরিওয়ালা, রঙিন বেলুন আর বেলুন হাতে ইতস্তত দাঁড়িয়ে থাকা ধূসর চোখের কিশোরটি। অনেকগুলো ধোঁয়া ওঠা চায়ের দোকান, মালাই চা…মাল্টা চা…লেবু চা…আদা চা…প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ রকমের চা তো পাবেনই, তাই যখন ইচ্ছে মিটিয়ে নেয়া আপনার চায়ের তৃষ্ণা! স্বোপার্জিত স্বাধীনতা ভাস্কর্যটিতে চিত্রিত অত্যাচারের দৃশ্য ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে এরই এক কোণে অবস্থান করছে।
চিত্রিত অত্যাচারের দৃশ্য, ‘স্বোপার্জিত স্বাধীনতা’

প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন উদযাপনে মুখরিত টিএসসি অডিটরিয়াম, সামনের বারান্দায় বহু সাংস্কৃতিক কর্মশালার আহবান নিয়ে বসে থাকে একঝাঁক বিদ্যার্থী। ভেতরের ক্যান্টিন, প্রাঙ্গন, মাঠ সব ভরে থাকে আড্ডার কলকাকলিতে। ছোট ছোট পথকলিরা কিছু ফুলের মালা বা চকলেট নিয়ে ঘুরতে থাকে এদিক ওদিক, অনেকটা জোর করেই যেন গছিয়ে দিতে চায়। ফুল নিলে বা একটু কুশল শুধালে ওদের মুখের হাসিটা ফুলের কৌমার্যকেও হার মানায় যেন। সামনেই সন্ত্রাসবিরোধী স্মারক রাজু ভাস্কর্য মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে যেন সকল অশুভ থেকে টিএসসিকে আগলে রাখতে।

চারুকলা অনুষদের অভ্যন্তরে দেখা মেলে এমন অনেক ভাস্কর্যের

বামপাশ দিয়ে বাংলা একাডেমী, একুশে বইমেলার প্রাঙ্গন,অন্যদিক দিয়ে সামনে আরেকটু এগোলে আলো-ছায়ার ঘেরাটোপে থাকা চারুকলা অনুষদ। এর দেয়ালে দেয়ালেই মেলে চারুকলার শিক্ষার্থীদের সৃষ্টিশীলতার আঁচ। বাইরে চুড়ি নিয়ে বসে থাকা অক্লান্ত কিছু মুখ, চুড়ির বেসাতি এরা বয়ে আনেন প্রতিদিন নিয়ম করে, নিয়ম করেই বলে দেন কোন চুড়ি কার হাতে কেমন মানাবে; তার নিজের হাতে থাকে কয়েকগাছি মলিন থেকে মলিনতর হয়ে যাওয়া চুড়ি। আর লোকজ বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বসে থাকা উদাস করা কিছু চেহারা দৃষ্টি কেড়ে নেবেই নেবে। কারো হাতে হয়তো একটা বাঁশের বাঁশি ফুঁ দেয়ার অপেক্ষায়, কেউবা একটু দেখে নিচ্ছেন একতারা কিংবা দোতারাটাই।

জনমুখরিত টিএসসি…

কলাভবনের রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রবেশদ্বার যা খানিকটা গোলকধাঁধাঁর বোধ দিয়ে ফেলে নবাগতদের! কোনোটা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও রোকেয়া হলের মধ্য দিয়ে, কোনটি আবার অপরাজেয় বাংলার সাথে। হাকিম চত্বর,মিলন চত্বর, মল চত্বর, ভিসি চত্বর…সব চত্বরে মিলেমিশে একাকার কলাভবনের এলাকাটি।

পলেস্তারা খসা প্রায় হলদেটে দেয়াল, জানালা-দরজার কাঠের পুরনো সবুজ, বাইরের মধুদা’র আবক্ষ ভাস্কর্যে আজো শুকনো ফুলের মালা আর ভেতরের দেয়ালে লম্বা পোর্ট্রেট যেন একটি নির্দিষ্ট সময়কেই এখনো ধারণ করে আছে; এর আবহাওয়াতেই মিশে আছে প্রাচীনত্বের গন্ধ। পাশে অভিজাত ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ, যার প্রাঙ্গনে প্রায়ই সমবেত হয় বাণিজ্যিক স্টলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক সুযোগ নিয়ে।

কলাভবনের ডাকসু সংগ্রহশালা

কলাভবনের শিক্ষার্থীদের মুখে প্রায়শ ধ্বনিত নাম ‘শ্যাডো’…কবে কখন কীভাবে এর নামকরণ হয়েছে কে জানে! এই ‘শ্যাডো’ হলো মোটামুটি সরু ও লম্বা একটি গলি যার দু’ধারে কর্মকর্তা-কর্মচারী-শিক্ষকদের গাড়ী ও বিপরীতে শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখা জড়ো করে। খাবারের দোকান, ফটোকপির দোকান…অনেক সমৃদ্ধ জায়গা বলা চলে একে।এর কাছাকাছিই ‘ডাকসু’, সাম্যবাদিতার বাণী ও চিত্রে ভরপুর দেয়াল-স্তম্ভ নিয়ে ডাকসু ভবন, এর সিঁড়ি অতি পরিচিত সদস্য কলাভবনের। এর পেছনের অংশটা ঝোপঝাড়ে ভরা, লম্বা শেকড়ের দৃষ্টিতে অরণ্যের অনুভব নিয়ে দু’এক পা তো হাঁটাই যায়!

কলাভবন যেমন সবসময় ভীড় ঘেঁষা, জনমুখর…ঠিক তার বিপরীত নিরিবিলি হাওয়া বয় কার্জন হল আর ফুলার রোডের এলাকাতে। স্মৃতি চিরন্তন পেরিয়েই প্রবেশ ঘটে ফুলার রোডে, প্রায় ফাঁকা চলার পথ মাঝে মাঝে চোখে পড়ে ঈশা খান ও অন্যান্য আবাসিক এলাকা থেকে আগত কিছু গাড়ি। আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়লে ভুলেই যেতে হয় এর একটু দূরে আছে অত ব্যাস্ত মোড়, পথ। কেমন শান্ত সুনিবিড় জায়গা, উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা খেলছে, অলস বসে থাকা কারো কারো। সামনেই বৃটিশ কাউন্সিলের জ্ঞানচর্চার অভিজাত সীমানা, কড়া নজরদারি। আর একটু এগিয়ে গেলেই অদ্ভূত এক চত্বর, স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্বর…শামিম শিকদারের নিপুণ হাতে গড়ে তোলা এক একটি মুখাবয়ব-অবয়ব। এই চত্বরে ঢুকে পড়লে তাদের ভীড়ে হারিয়ে যেতেই হয়, সবক’টি মুখ মনে রাখতে ইচ্ছে হয় কিন্তু পারা যায় না।

শামীম শিকদারের গড়া স্বাধীনতা সংগ্রাম ভাস্কর্য চত্ত্বর…

ভাস্কর্যের কথা উঠলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো ভাস্কর্যের নাম একবার নিতেই হয়! তিন নেতার মাজার, সপ্তশহীদ স্মৃতিস্তম্ভ, ঘৃণাস্তম্ভ, স্বামী বিবেকানন্দ ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা, রাজু ভাস্কর্য, অপরাজেয় বাংলা…কত কত নাম! একেকটি নাম বহন করছে ইতিহাসের একেকটি খন্ডাংশ। জগন্নাথ হলের বুদ্ধমূর্তিটির কথা তো বলাই হলো না! বিশাল এই বুদ্ধমূর্তির সামনে সবার একবার হলেও দাঁড়ানো উচিত, ধ্যানগ্রস্ত বুদ্ধ যেন দর্শককেও আচ্ছন্ন করে ফেলতে চান তার ধ্যানে! ভাল লাগবে।

কলাভবন থেকে বেরুলেই হাকিম চত্ত্বর থেকে একটু দূরে গুরুদুয়ারা নানকশাহী… ইচ্ছে করলেই দেখে নিতে পারেন উপাসনালয়টি। মসজিদের পাশে কবি নজরুলের সমাধি যা দেখলেই মনে পড়ে যায় কবির শেষ ইচ্ছা, “মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই”…শুধু কবিই নন, পাশে আছে দেশের আরেক গুণী সন্তান শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের সমাধিও। আর কার্জন হলের ওদিকটাদে ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সমাধি। দেশের ইতিহাসের কারিগরেরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকাতে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

অভিজাত কার্জন হল

আরেকটি সম্পূর্ণ পৃথক এলাকা হচ্ছে কার্জন হলের লালচে অভিজাত ভবনের নীরব সৌন্দর্য, শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়… সব মিলিয়ে একটি সুনসান পরিবেশ। কার্জন হলের মধ্য দিয়ে হেঁটেই পৌঁছে যেতে পারেন দোয়েল চত্বরে, দুইদিকে এত কুটিরশিল্প আর এত গাছগাছালির সমাহার যে মনে হয় প্রতিদিনই এখানে মেলা বসেছে! সন্ধ্যেবেলা দোয়েল চত্বরের দোকানগুলোর আশেপাশে হাঁটলে একটা অদ্ভূত মায়া এসে যায় রঙ বেরং এর আলোর ছায়ায়। বাঁশ, কাঠ বা মাটির তৈরি ঝুলন্ত ল্যাম্পশেডগুলোতে ওরা সন্ধ্যায় আলো জ্বালে, আর পাশের রাস্তা থেকে দেখে মনে হয় আলোর মেলা বসেছে, একঝাঁক আলো নেমেছে ঝুপ করে!

এই ক্যাম্পাসের সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, এর একটি অংশের সাথে অপরটির দারুণ অমিল রয়েছে। আর এই অমিলই একে করে তুলেছে বৈচিত্রপূর্ণ ও সমৃদ্ধ। এর দেয়ালে দেয়ালে এত লেখা আর ছবি রয়েছে যে মনে হয় পথের দু’ধারে দেয়ালগুলোও কথা বলে চলছে। ইট-সুরকি নয় শুধু, এখানে প্রতিনিয়ত প্রাণ বয়ে যায় কর্মে-আলস্যে।

দোয়েল চত্ত্বর

ঢাবির ক্যাম্পাস নিজের মধ্যেই একটি বহুমাত্রা হয়ে আছে। এর সীমানায়, বিস্তৃতিতে, স্বাতন্ত্র্যে যে কাউকেই আকর্ষণ করবে শাহবাগের বেশ বড় এলাকাজুড়ে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি।

Wednesday, January 25, 2017

মুঘল সাম্রাজ্য এর ইতিহাস (পর্ব ২)

By On 9:02:00 PM
তৈমুর বিন তারাগাই বারলাস ছিলেন ১৪শ শতকের একজন তুর্কী মোঙ্গল সেনাধ্যক্ষ। তিনি পশ্চিম এবং মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজ দখলে এনে তিমুরীয় সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন যা ১৩৭০ থেকে ১৪০৫ সাল পর্যন্ত নেতৃত্বে আসীন ছিল। তাছাড়াও তার কারণেই তিমুরীয় রাজবংশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেই বংশ কোন না কোনভাবে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে নেতৃত্বে আসীন ছিল। তিনি তিমুরে ল্যাংগ্‌ নামেও পরিচিত যার অর্থ খোঁড়া তৈমুর। বাল্যকালে একটি ভেড়া চুরি করতে গিয়ে তিনি আহত হন যার ফলে তার একটি পা অকেজো হয়ে যায়। তার সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল আধুনিক তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক, কুয়েত, ইরান থেকে মধ্য এশিয়ার অধিকাংশ অংশ যার মধ্যে রয়েছে কাজাখস্তান, আফগানিস্তান, রাশিয়া, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজিস্তান, পাকিস্তান, ভারত এমনকি চীনের কাশগর পর্যন্ত। তিনি একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করিয়ে যান যার নাম তুজুক ই তৈমুরী 
চেঙ্গিজ খান ছিলেন প্রধান মঙ্গোল রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতা বা মহান খান, ইতিহাসেও তিনি অন্যতম বিখ্যাত সেনাধ্যক্ষ এবং সেনাপতি। জন্মসূত্রে তার নাম ছিল তেমুজিন । তিনি মঙ্গোল গোষ্ঠীগুলোকে একত্রিত করে মঙ্গোল সম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। নিকট ইতিহাসে এটিই ছিল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সম্রাজ্য। তিনি মঙ্গোলিয়ার বোরজিগিন বংশে জন্ম নিয়েছিলেন। এক সাধারণ গোত্রপতি থেকে নিজ নেতৃত্বগুণে বিশাল সেনাবাহিনী তৈরি করেন।যদিও বিশ্বের কিছু অঞ্চলে চেঙ্গিজ খান অতি নির্মম এবং রক্তপিপাসু বিজেতা হিসেবে চিহ্নিত তথাপি মঙ্গোলিয়ায় তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে সম্মানিত ও সকলের ভালোবাসার পাত্র। তাকে মঙ্গোল জাতির পিতা বলা হয়ে থাকে। একজন খান হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বে চেঙ্গিজ পূর্ব ও কেন্দ্রীয় এশিয়ার অনেকগুলো যাযাবর জাতিগোষ্ঠীকে একটি সাধারণ সামাজিক পরিচয়ের অধীনে একত্রিত করেন। এই সামাজিক পরিচয়টি ছিল মঙ্গোল।১১৫০ সাল থেকে ১১৬০ সালের মধ্যে কোন এক সময়ে চেঙ্গিজ খান জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল কাটান ঘোড়া চালনা শিখে। মাত্র ছয় বছর বয়সে নিজ গোত্রের সাথে শিকার অভিযানে যোগ দেওয়ার অনুমতি পান তিনি। নয় বছর বয়সে তার বাবাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় এবং তাদের পুরো পরিবারকে ঘরছাড়া করা হয়। মা র কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষায় তিনি পরিবারের কর্তার ভূমিকা পালন শুরু করেন। অন্যকে রক্ষা করার বিদ্যা তখনই তার রপ্ত হয় যা পরবর্তীতে কাজে লেগেছিল।৪০থেকে ৫০ বছর বয়সের সময় তিনি মঙ্গোল জাতির পত্তন ঘটানোর পর বিশ্বজয়ে বের হন। প্রথমেই জিন রাজবংশকে পরাজিত করেন। চীন থেকেই তিনি যুদ্ধবিদ্যা কূটনীতির মৌলিক কিছু শিক্ষা লাভ করেন। পালাক্রমে দখল করেন পশ্চিম জিয়া, উত্তর চীনের জিন রাজবংশ, পারস্যের খোয়ারিজমীয় সম্রাজ্য এবং ইউরেশিয়ার কিছু অংশ। মঙ্গোল সাম্রাজ্য অধিকৃত স্থানগুলো হল আধুনিক গণচীন, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, আজারবাইজান, আরমেনিয়া, জর্জিয়া, ইরাক, ইরান, তুরস্ক, কাজাখস্তান, কিরগিজিস্তান, উজবেকিস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, মলদোভা, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং কুয়েত। চেঙ্গিজ খান ১২২৭ সালে মারা যাওয়ার পর তার পুত্র এবং পৌত্রগণ প্রায় ১৫০ বছর ধরে মঙ্গোল সম্রাজ্যে রাজত্ব করেছিল। 
নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন 
নাসিরুদ্দিন মুহম্মদ হুমায়ুন ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সম্রাট যিনি ১৫৩০ সাল থেকে ১৫৪০ সাল এবং ১৫৫৫ সাল থেকে ১৫৫৬ সাল পর্যন্ত দুই দফায় আধুনিক আফগানিস্তান, পাকিস্তান এবং ভারতের উত্তরাঞ্চ রাজত্ব করেছেন।তিনি এই সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবরের পুত্র ছিলেন। তিনি তার পিতা বাবরের মতই তার রাজত্ব হারিয়েছিলেন, কিন্তু পারস্য সাম্রাজ্যের সহায়তায় পরিনামসরুপ আরও বড় রাজ্য পেয়েছিলেন।হুমায়ূন ভারতবর্ষের দ্বিতীয় মোঘল সম্রাট। প্রথম মোঘল সম্রাট জহিরউদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের চার ছেলে ছিল হুমায়ূন, কামরান, হিন্দাল এবং আসকরি (বাবরের মোট সন্তান ছিল ১৮; অন্যরা শৈশবে ইন্তেকাল করেন)। বাবরের প্রথম ছেলে হুমায়ুন ১৫০৮ সালের ৬ মার্চ কাবুলে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার মৃত্যুর তিনদিন পর হুমায়ূন ১৫৩০ সালের ২৯ ডিসেম্বর দিল্লীতে সিংহাসনে আরোহণ করেন। মারা যান ১৫৫৬ সালে। মাঝে ১৬ বছর ছিলেন সিংহাসনচ্যুত। ১৫৩৯সালের ২৬ জুন চৌসায় এবং পরের বছর কৌনজে শেরশাহের কাছে হেরে সিংহাসন হারান। সিংহাসনচ্যুত অবস্থাতেই ১৫৪২ সালে আকবর জন্মগ্রহণ করেন। ১৫৫৫ সালের ২২ জুন সেরহিন্দের যুদ্ধে জয়ের মাধ্যমে তিনি পুনরায় সিংহাসন লাভ করেন। পরের বছরই তথা ১৫৫৬ সালের ২৪ জানুয়ারি মাগরিবের নামাজ আদায় করার জন্য লাইব্রেরি থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। এ সময় তার অধিকৃত এলাকা ছিল সীমিত। তবে তিনি যদি অংশ বিশেষ হলেও সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করতে না পারতেন, তবে মোঘল ইতিহাস সৃষ্টি হতো কিনা তা নিয়ে যথেস্ট সংশয় আছে। হুমায়ূন ছিলেন মার্জিত আচরণের অধিকারী। দয়ালু হিসেবেও তার সুনাম ছিল। তার চরিত্রের একমাত্র ত্রুটি ছিল তিনি ছিলেন আফিমে আসক্ত। এই আসক্তি তাকে সেনানায়ক ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আপন মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল।
রাজপুত্র আকবর ও তার ঘনিষ্ঠ সভাসদগণের প্রাতভ্রমণ, সম্ভবত তার সাথের ব্যক্তিটি তার অভিভাবক বৈরাম খা
বৈরাম খাঁ পাঠানে একজন আফগানের হাতে খুন হন, ১৫৬১, আকবরনামা 
বৈরাম খাঁ
বৈরাম খাঁ ছিলেন মোঘল সম্রাট হুমায়ুন এবং আকবরের সেনাপতি এবং উপদেষ্টা এবং হুমায়ুনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও শ্রদ্ধেয় সভাসদ। হুমায়ুন তকে খান খানান (রাজাধিরাজ বা রাজাদের রাজা) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। তার প্রকৃত নাম ছিল বৈরাম বেগ।
মনোহার দ্বারা ১৬ শতকের শেষ ভাগে আঁকা আকবরের একটি চিত্র।
সম্রাট আকবর
জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর ভারতবর্ষের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। তিনি ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট। পিতা সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে আকবর ভারতের শাসনভার গ্রহণ করেণ। বৈরাম খানের তত্ত্বাবধানে তিনি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার সাম্রাজ্য বিস্তার করতে থাকেন। ১৫৬০ সালে বৈরাম খাঁকে সরিয়ে আকবর নিজে সকল ক্ষমতা দখল করেণ। কিন্তু আকবর ভারতবর্ষ এবং আফগানিস্তানে তার সাম্রাজ্য বিস্তার চালিয়ে যান। ১৬০৫ সালে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত প্রায় সমস্ত উত্তর ভারত তার সাম্রাজ্যের অধীনে চলে আসে। আকবরের মৃত্যুর পর তার পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীর ভারতবর্ষের শাসনভার গ্রহণ করেন।সাম্রাজ্যের রাজপুতদের সাথে সুসম্পর্ক রাখার স্বার্থে আকবর বিভিন্ন রাজবংশের রাজকন্যাদের বিয়ে করেন। তবে তার স্ত্রীদের মধ্যে সবচাইতে আলোচিত হলেন যোঁধা বাঈ । রাজ্য শাসনের জন্য আকবর আমলাতন্ত্র চালু করেন এবং প্রদেশগুলোকে স্বায়ত্বশাসন দান করেন। আকবরের আমলাতন্ত্র বিশ্বের সবথেকে ফলপ্রসু আমলাতন্ত্রের মধ্যে অন্যতম। তিনি প্রত্যেক অঞ্চলে সামরিক শাসক নিয়োগ দেন। প্রত্যেক শাসক তার প্রদেশের সেনাবাহিনীর দায়িত্বে ছিল। ক্ষমতার অপব্যবহারের শাস্তি ছিল একমাত্র মৃত্যুদন্ড। 
জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর 
যোঁধা বাঈ 
হীরাবাঈ ছিলেন রাজস্থানের রাজপুতঘারানার রাজা ভারমালের জ্যেষ্ঠ কন্যা।হীরাবাঈ ১৫৪২ সালের পহেলা অক্টোবার জন্মগ্রহণ করেন।মৃত্যুবরণ করেন ১৯মে,১৬২৩ সালে,প্রায় ৮১ বছর বয়সে।তিনি রাজা ভগবান দাসের বোন এবং রাজা মানসিং এর ফুপু ছিলেন।তিনি আকবরের১ম রাজপুত স্ত্রী।সম্রাট আকবরেরসাথে তার বিবাহ হয় তিনি ১৫৬২ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী।তিনি শাহাজাদা সেলিমের অর্থাত্‍ সম্রাট জাহাঙ্গীরের মা।তার আসল নাম রাজকুমারী হীরা কুমারী।আবার তার নাম যোধাবাঈ ছিল নাকি তা নিয়ে বির্তক রয়েছে।তবে বিয়ের পরে তিনি মরিয়ম উজ-জামানী নাম ধারণ করেন।তিনি ছিলেন আমের রাজ্যের রাজকুমারী। তার মায়ের নাম হল ময়নাবতী এবং তার বোনের নাম হল 'সুকন্যা দাস। তার মৃত্যু হয়েছিল সম্ভবত ১৬২৩ সালে।
আকবর বুঝতে পেরেছিলেন, যে রাজপুতরা শত্রু হিসাবে প্রবল কিন্তু মিত্র হিসাবে নির্ভরযোগ্য। আকবরের শাসনকালে তিনি রাজপুতদের সাথে সন্ধি করার প্রয়াস করেছিলেন। কিছুটা যুদ্ধের দ্বারা এবং অনেকটাই বিবাহসূত্রের দ্বারা তিনি এই প্রয়াসে সফল হয়েছিলেন। অম্বরের রাজা ভর মল্লের কন্যা জোধাবাঈ এর সাথে তার বিবাহ হয়। ভর মল্লের পুত্র রাজা ভগবন দাস আকবরের সভায় নবরত্নের একজন ছিলেন। ভগবন দাসের পুত্র রাজা মান সিংহ আকবরের বিশাল সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন। রাজা টোডর মল্ল ছিলেন আকবরের অর্থমন্ত্রী। আরেক রাজপুত, বীরবল, ছিলেন আকবরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং প্রিয়পাত্র। বেশিরভাগ রাজপুত রাজ্য যখন আকবরের অধীনে চলে আসছে, তখন একমাত্র মেওয়ারের রাজপুত রাজা মহারানা উদয় সিংহ মুঘলদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। চিতোরের পতনের পর তিনি উদয়পুর থেকে মেওয়ার শাসন করতেন। তার সুযোগ্য পুত্র মহারানা প্রতাপ সিংহ সারা জীবন মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছিলেন। মেওয়ারের রাজপুতরাই একমাত্র রাজপুত জাত যাদের কে আকবর তার জীবদ্দশায় জয় করে যেতে পারেননি। আকবর তার নিজস্ব ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দীন-ই-ইলাহি নামক ধর্ম চালু করার চেষ্টা করেন। 
আকবরের সভাসদ দের মধ্যে নবরত্ন হিসেবে যারা ইতিহাশখ্যাত হয়ে আছেন,রাজা টোডরমল,তানসেন,বীরবল,আবুল ফজল
মিয়া তানসেন 
মিয়া তানসেন প্রায় সকল বিশেষজ্ঞের ধারণা মতে উত্তর ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ। বর্তমানে আমরা যে হিন্দুস্তানী উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সাথে পরিচিত তার মূল স্রষ্টা হলেন এই তানসেন। তার এই সৃষ্টি যন্ত্র সঙ্গীতের এক অনবদ্য অবদান। বহু প্রাচীনকালে সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত এর প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে। তার কর্ম এবং বংশীয় উত্তরাধিকারীদের মাধ্যমেই মূলত এই ধারাটি আজও টিকে রয়েছে। তিনি মুঘল বাদশাহ আকবরের রাজদরবারের নবরত্নের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। তাকে সঙ্গীত সম্রাট নামে ডাকা হয়। তানসেন ভারতের গোয়ালিয়রে এক হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুকুন্দ মিস্ত্র ছিলেন একজন কবি। ছোটবেলায় তার নাম ছিল তনু মিস্ত্র। তার বাবা মূলত বিহাটের বাসিন্দা ছিলেন। ছেলের জন্মে তিনি অতি আনন্দিত হন এবং এই জন্মের পিছনে সাধু গাউসের আশীর্বাদ রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। ছেলের নাম রাখেন রামতনু (রামতনু মিস্ত্র)। ছোটবেলা থেকেই তানসেন সঙ্গীত শিক্ষা করতে শুরু করেন। এই শিক্ষায় তার গুরু ছিলেন বৃন্দাবনের তৎকালীন বিখ্যাত সঙ্গীত শিক্ষক হরিদাস স্বামী। মাত্র ১০ বছর বয়সে তার মেধার ক্ষমতা প্রকাশিত হয়। তার মেধা দেখে স্বামীজি বিস্মিত হন এবং তার বাবাকে বলে নিজের সাথে বৃন্দাবন নিয়ে যান। এই বৃন্দাবনেই তানসেনের মূল ভিত রচিত হয়। বিভিন্ন রাগের সুষ্ঠু চর্চার মাধ্যমে তিনি বিখ্যাত পণ্ডিত শিল্পীতে পরিণত হন। অনেক বিখ্যাত হওয়ার পরও তাই তিনি সময় পেলেই বৃন্দাবন আসতেন।বৃন্দাবন থেকে বিহাটে ফিরে তানসেন শিব মন্দিরে সঙ্গীত সাধনা শুরু করেন। লোকমুখে বলতে শোনা যায়, তার সঙ্গীতে মন্দিরের দেয়াল আন্দোলিত হত। স্থানীয়রা পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে, তানসনের সঙ্গীতের কারণেই মন্দিরটি এক দিকে একটু হেলে পড়েছে। তানসেন সম্বন্ধে আরও কিছু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। যেমন : বৃক্ষ ও পাথরকে আন্দোলিত করা, নিজ থেকেই বাতি জ্বালানো এবং যখন বৃষ্টির কোনো চিহ্নই নেই তখন বৃষ্টি আনয়ন। বাবা-মার মৃত্যুর পর তিনি হযরত গাউসের নিকট আসেন।তিনি একই সাথে তানসেনের সাঙ্গীতিক ও আধ্যাত্মীক গুরু ছিলেন।তবে তানসেন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন কি না তা নির্ভরযোগ্য ভাবে জানা যায় না।এর পক্ষে ও বিপক্ষে দুইদিকেই প্রচুর মত পাওয়া যায়। যাই হোক, শিক্ষা শেষে তিনি মেওয়া বান্ধবগড়ের রাজা রামচন্দ্রের রাজকীয় আদালতে সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। এরপর তিনি মুঘল বাদশাহ আকবরের রাজ দরবারে নবরত্নের একজন হিসেবে সঙ্গীতের সাধনা শুরু করেন। তানসেনের দুজন স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের খবর পাওয়া যায়।সন্তানদের নাম হামিরসেন,সুরাটসেন,বিলাস খান,তান্সান্স খান,সরস্বতী দেবী।

গোয়ালিয়রের মহান সুফি সাধক শেখ মুহাম্মদ গাউসের সমাধি কমপ্লেক্সেই মিয়া তানসেনে সমাধি রচিত হয়েছিল। এখনও এটি বিদ্যমান রয়েছে। শেখ মুহাম্মদ গাউস ষোড়শ শতাব্দীর অন্যতম সুফী দরবেশ ও ফকির ছিলেন। সকল ধর্ম বিশ্বাসের লোকের কাছে তিনি সনামধন্য ছিলেন। গাউস এবং তানসেনের দুইটি সমাধি পাশাপাশি রয়েছে। তাছাড়াও এই সমাধি সৌধে অন্যান্য কবর রয়েছে। প্রথাগত মুঘল স্টাইলে এই কমপ্লেক্সটি তৈরি করা হয়েছে। সমাধি ক্ষেত্রটি একটি বিশাল বর্গাকার মাঠের মত যার কেন্দ্র রয়েছে ষড়ভূজ আকৃতির কিছু স্তম্ভ। সমাধি সৌধের দালানগুলোর দেয়ালের মধ্যে পাথর কেটে নকশা করা হয়েছে। দেয়ালের একেক অংশে নকশা একেক রকম। পুরো দালানের উপর বিস্তৃত অংশ জুড়ে একটি বৃহৎ মিনার রয়েছে যা একসময় নীল রঙা টাইল্‌স দ্বারা আবৃত ছিল। সাধু গাউসের সমাধির ডান পাশে তানসেনের সমাধি অবস্থিত। সমাধিটি একটি বর্ধিত আয়তাকার কাঠামোর উপর অবস্থিত। কাঠামোটি মার্বেল পাথর দ্বারা নির্মিত। এর চারদিকে ছাঁইচবিশিষ্ট প্যাভিলিয়ন রয়েছে যা বিভিন্ন নকশায় সুশোভিত। 
বীরবল অথবা রাজা বীরবল হলেন আকবরের মোঘল সাম্রাজ্যের অন্যতম সভ্য ছিলেন। তিনি তার চতুরতার জন্যই তিনি মূলত সকলের কাছে সুপরিচিত। তিনি ব্রাহ্মণ ছিলেন। এবং ১৫৫৬-১৫৬২ সালের দিকে একজন কবি ও গায়ক হিসেবে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে তিনি সম্রাটের অত্যন্ত কাছের হয়ে পড়েন এবং নানা সেনা অভিযানে যান যদিও প্রকৃতপক্ষে তিনি এই বিষয়ে কোনরুপ শিক্ষা নেননি। ১৫৮৬ সালের সম্রাট তাকে ভারতের উত্তর-দক্ষিণ দিকে (বর্তমান আফগানিস্তান) পাঠান। কিন্তু সেই অভিযান অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয় এবং বিদ্রোহী উপজাতিদের আক্রমণে বহু সৈন্যসহ বীরবল মৃত্যুবরণ করেন।তার মৃত্যু সম্রাটকে অত্যন্ত ব্যথিত করে।আকবরের শাসনামলের শেষের দিকে তাঁর ও বীরবলের মধ্যকার মজার ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে থাকে। এই কাহিনীগুলোতে তাঁকে অত্যন্ত চতুর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে এই কাহিনী পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় হয়। এই গল্পে তিনি তাঁর পরিপার্শ্বের সকলকে এবং স্বয়ং সম্রাটকেও বোকা বানান। বিংশ শতাব্দীর সময় থেকে এই কাহিনীর উপর নাটক, চলচ্চিত্র এবং বই লেখা হতে লাগে। বর্তমানে পাঠ্যবইয়ে এই কাহিনীকে স্থান দেয়া হয়েছে। ধারণা করা হয় ১৫৫৬ থেকে ১৫৬২ সালের মধ্যে তার সাথে আকবরের প্রথম দেখা হয়। তার কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি সম্রাটের কবি রাই হন। আকবর তাকে বীরবল নাম দেন এবং রাজা উপাধীতে ভূষিত করেন। তারপর থেকে তিনি এই নামেই পরিচিত হন।বীরবল নামটি এসেছে বীর বর থেকে যার মানে সাহসী এবং মহান। কিন্তু এই উপাধীটা কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক কারণ তিনি রণকৌশলে তেমন দক্ষ ছিলেন না। আকবর তার হিন্দু সভাষদদের তাদের ঐতিহ্যানুযায়ী নাম প্রদান করতেন। এস.এইচ হোদিভালা বলেন, এই নামগুলো বেতাল পঞ্চবিংশতী হতে নেয়া হতে পারে। কারণ উক্ত বইয়ের বীর বর নামক এক চরিত্র একজন বিচারককে অনেক সম্মান প্রদর্শন করেন। আকবর সাহিত্য বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। তিনি সংষ্কৃত ও ভাষার বই পার্সিতে অনুবাদ করতেন।

বীরবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তাকে সম্রাট আকবরের নয়জন উপদেষ্টা, অর্থাৎ নবরত্নের একজন করে দেয়। অন্যান্য রত্নরা হলেন টোডার মল, মান সিংহ, ভগবান দাস প্রভৃতি। ক্রমেই তিনি একজন ধর্মীয় উপদেষ্টা, সামরিক কর্মকর্তা এবং সম্রাটের নিকট বন্ধু হয়ে পড়েন। সম্রাটকে তিনি প্রায় ৩০ বছর সেবা দান করেন।১৫৭২ সালে সম্রাট তাকে ও এক বিশাল সেনাবাহিনীকে শের আফগান কোয়ালি খানকে তার বড় ভাই হাকিম মির্জার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য পাঠান। এটিই ছিল তাঁর প্রথম সামরিক অবদান। যদিও তার কোন সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল না, তথাপি অন্যান্য উপদেষ্টাদের মত, যেমন টোডার মল অর্থনীতিতে অবদান রাখেন, ঠিক সেইরুপ তাঁকে সম্রাট বিভিন্ন অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে পাঠান।আবুল ফজল এবং আবদুল কাদির বাদওয়ানি কোর্টের ঐতিহাসিক ছিলেন। যদিও ফজল বীরবলকে সম্মান করত এবং তাঁকে প্রায় পঁচিশটি সম্মানজনক উপাধী দেয় ও দু'হাজার অভিযানের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন, কাদির হিন্দু হওয়ায় বীরবলকে সহ্য করতে পারত না। সে বীরবলকে বাস্টার্ড বলত এবং লিখত কিভাবে একজন ব্রাহ্মণ সংগীতশিল্পী হয়ে সে সম্রাটের এত প্রিয় ও বিশ্বাসভাজন হয়ে ওঠে।কিন্তু একই সময়ে আকবরের অন্যান্য মুসলিম সভাষদরা তার প্রতিভা সম্পর্কে অবগত হয়েও তাকে পছন্দ করতেন না বলে জানা যায়। 

আকবর দীন-ঈ-ইলাহি নামের একটি ধর্ম প্রচার করেন। এই ধর্ম হিন্দুধর্ম ও ইসলাম ধর্ম এর সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় এবং এই ধর্মমতে আকবর পৃথিবীতে এই সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত মানুষ। আইন-ঈ-আকবরী অনুযায়ী বীরবল আকবর ছাড়া সেই সমস্ত মানুষের একজন ছিলেন যারা এই ধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং এই ধর্ম গ্রহণকারী একমাত্র হিন্দু ব্যক্তি। সম্রাটের সাথে বীরবলের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর ছিল, যদিও তিনি সম্রাটের চেয়ে চৌদ্দ বছরের ছোট ছিলেন। নবরত্নের মধ্যে বীরবল ছিল সবচাইতে দামি রত্ন। বাদওয়ানী একে বিকৃত করে বলে, তার দেহ আমার দেহ, তার রক্ত, আমার রক্ত। আকবর দুইবার বীরবলের প্রাণ রক্ষা করেন বলে জানা যায়।কলকাতার ভিক্টোরিয়া হলে অবস্থিত আকবরী নয় রত্ন-এ দেখা যায়, বীরবল ঠিক আকবরের পরের স্থানেই আছেন। প্রথমে বীরবল সম্রাটকে বিনোদন দিলেও পরবর্তীকালে তাকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে পাঠানো হয়। বীরবল সম্রাটের কাছ থেকে একটি দোতলা বাড়ি লাভ করেন, যা সম্রাটের প্রাসাদের সীমানার মধ্যে ছিল।তিনি বীরবলকে কাছে পেয়ে বেশ আনন্দিত ছিলেন এবং তিনিই একমাত্র সভাষদ ছিলেন যিনি সম্রাটের প্রাসাদের চত্বরের মধ্যে স্থান পান। আকবরের প্রাসাদের সাতটি দরজার একটির নাম ছিল বীরবলের দরজা (বীরবলস গেট বা Birbal's Gate 
সম্রাট জাহাঙ্গীর 
নুরুদ্দীন মহম্মদ সেলিম বা জাহাঙ্গীর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট। তিনি ১৬০৫ সাল থেকে তার মৃত্যু অবধি ১৬২৭ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন।জাহাঙ্গীর ছিলেন মুঘল সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট আকবর এর পুত্র। তিনি ১৫৯৯ সালে তার পিতা আকবর এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। সেই সময় আকবর দক্ষিণ ভারত এ ব্যস্ত ছিলেন। তিনি হেরে গেলেও পরবর্তী কালে তার সৎমা রুকাইয়া সুলতান বেগম ও সেলিমা সুলতান বেগম এর সমর্থনে ১৬০৫ সালে রাজা হতে সমর্থ হন। প্রথম বছরেই তাকে তার বড় ছেলে খসরুর বিদ্রোহের মোকাবিলা করতে হয় এবং তিনি তাতে সফল হন। তিনি খসরু সমর্থিত ২০০০ লোককে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং খসরুকে অন্ধ করে দেন।বাবার মত চমৎকার প্রশাসন ছাড়াও জাহাঙ্গীর এর শাষনামলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শক্তিশালী অর্থনীতি এবং চিত্তাকর্ষক সাংস্কৃতিক সাফল্য বিদ্যমান ছিল। তাছাড়া সার্বভৌম সীমানা অগ্রসরও অব্যাহত ছিল,বঙ্গ, মেওয়ার, আহমেদনগর ও দক্ষিণ ভারত পর্যন্ত তার রাজ্য বিস্তৃত ছিল। এই সাম্রাজ্য বৃদ্ধির একমাত্র বাধা আসে যখন পারস্য অঞ্চলের সাফারীদ রাজবংশের শাহেনশাহ আব্বাস কান্দাহার আক্রমণ করেন। তা ঘটে যখন ভারতে তিনি খসরুর বিদ্রহ দমন করছিলেন। তিনি রাজপুতানা রাজাদের সাথে সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনায় বসেন এবং তারা সকলেই মুঘল আধিপত্য মেনে নেন ও তার বদলে তাদের মুঘল সাম্রাজ্যে উঁচু পদ দেওয়া হয়।জাহাঙ্গীর শিল্প, বিজ্ঞান এবং, স্থাপত্য সঙ্গে মুগ্ধ হয়ে তরুণ বয়স থেকেই চিত্রকলার প্রতি ঝোঁক দেখিয়েছেন এবং তার নিজের একটি কর্মশালায় ছিল। মুঘল চিত্রকলা শিল্প, জাহাঙ্গীর এর রাজত্বের অধীনে মহান উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তার সময় উস্তাদ মনসুর জন্তু এবং পাখির ছবি একে বিখ্যাত হন। জাহাঙ্গীর এর ছিল একটি বিশাল পক্ষিশালা ও পশুশালা ছিল। জাহাঙ্গীর ইউরোপীয় এবং ফার্সি শিল্পকলাকেও ভালবাসতেন। তিনি ফার্সি রানী নুর জাহান দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তার সাম্রাজ্য জুড়ে ফার্সি সংস্কৃতি প্রচার করেন। তার সময়েই শালিমার গার্ডেন তৈরি হয়।

জাহাঙ্গীর তার বাবার মত একজন কঠোর সুন্নি মুসলমান ছিলেন না। তিনি সার্বজনীন বিতর্কে বিভিন্ন ধর্মের মানুষদের অংশগ্রহণ করতে দিতেন। জাহাঙ্গীর তার লোকদের কাউকে জোড়পূর্বক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বারণ করতেন। তিনি সকল প্রকার ধর্মের লোকেদের থেকে সমান খাজনা নিতেন। থমাস রো, এডওয়ার্ড টেরি-সহ অনেকেই তার এইপ্রকার আচরণের প্রশংসা করেন। থমাস রোর মতে জাহাঙ্গীর নাস্তিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন।অনেক ভাল গুন থাকা সত্ত্বেও, মদ্যপান ও নারী এই দুই আসক্তির জন্য জাহাঙ্গীর সমালোচিত হন। তিনি এক সময় তার স্ত্রী নুর জাহান কে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিয়ে ফেলেন এবং নুর জাহান বিভিন্ন বিতর্কিত চক্রান্তের সাথে জড়িয়ে পরেছিলেন। ১৬২২ সালে তার পুত্র ক্ষুরাম প্রথম বিদ্রোহ করেন। কিন্তু ১৬২৬ সালে জাহাঙ্গীরের বিশাল সেনাবাহিনীর কাছে কোণঠাসা হয়ে তিনি নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করেন। কিন্তু ১৬২৭ সালে তার মৃত্যুর পর ক্ষুরামই নিজেকে শাহ জাহান উপাধিতে ভূষিত করে সিংহাসন দখল করেন। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর বিভিন্ন গল্প , সিনেমা ও সাহিত্যে তার ও আনারকলির রহস্যে ভরা সম্পর্ক স্থান পায়।
১৬০০ সালে জাহাঙ্গীর এর ক্ষমতায়ে আসা নিয়ে উৎসব
রাজকুমার সেলিম ৩৬ বছর বয়েসে তার বাবার মৃত্যুর ৮ দিন পর ৩০ নভেম্বর ১৬০৫ সালে ক্ষমতায় এসে নিজেকে নুরুদ্দিন মহম্মদ জাহাঙ্গীর বাদশাহ গাজী উপাধিতে ভূষিত করে। সেখান থেকেই তার ২২ বছরের রাজত্বের শুরু।তিনি প্রথমেই তার ছেলে খসরু মিরজার বিদ্রোহের মুখে পড়েন। খসরু কে তিনি অন্ধ করে দেন ও তাকে আর্থিক সাহায্য করায় পঞ্চম শিখ গুরু অর্জন দেব কে পাঁচ দিন ধরে অত্যাচার করা হয়। পরে তিনি নদীতে স্নান করার সময় উধাও হয়ে যান।জাহাঙ্গীর তার ছোট ছেলে খুরাম পরবর্তী কালে শাহ জাহানকে উত্তরাধিকার এর বিষয় সমর্থন করতেন। উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতে শাহ জাহান ১৬২২ সালে তার বড় ভাই খসরু কে খুন করেন।মেয়ার এর রানা এবং শাহ জাহান এর মধ্যে একটি সফল চুক্তি হয়। শাহ জাহান বঙ্গ ও বিহার ব্যস্ত থাকার সময় জাহাঙ্গীর তার জেতা রাজ্য কে নিজের বলে দাবি করেন। নিজেদের মধ্যে বিবাদের সাহায্য নিয়ে কান্দাহার জয় করেন। তার ফলে মুঘল রা আফগানিস্তান ও পারস্য এর মুল্যবান বাণিজ্যিক রুট গুলি নিজেদের অধীন থেকে হারিয়ে ফেলে।










বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড়দের ইমেজ কি নষ্ট করা হচ্ছে?

By On 8:02:00 AM
যখন এটি লিখছি, তখন সমস্ত অনলাইন জুড়ে আরাফাত সানির গ্রেপ্তার হবার খবরে সয়লাব বাংলাদেশী মিডিয়া। এমনকি বিদেশী কয়েকটা পত্রিকাতেও ইতিমধ্যে চলে এসেছে। বাংলাদেশের আইকন হিসেবেই ধরা হয় আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের। আরাফাত সানির আগেও আরো এক জাতীয় দলের খেলোয়াড় কাজের মেয়েকে নির্যাতনের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার আগে রুবেল-হ্যাপী ব্যাপারটা নিয়েও অনেক কথাবার্তা হয়েছে।

এধরনের ঘটনাগুলো যখন ঘটে পুরো ব্যাপারটা কিন্তু জনসমক্ষে আসে না কিন্তু ফলাও করে প্রচার হয় সেই খেলোয়াড়ের কথা। কে দোষী বা কে নির্দোষ এগুলো নিয়ে এখনও কথা বলার সময় আসে নি। কিন্তু জাতীয় আইকনদের নিয়ে এধরনের ঘটনা বেশ বিব্রতকর। সত্য মিথা বা তদন্ত আরো পরে আসছে। আপনাদের কি মনে হয়? জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের কি ইমেজ নষ্ট করা হচ্ছে নাকি জাতীয় দলের কিছু খেলোয়াড় দেশের ইমেজটা নষ্ট করছে? এসব ব্যাপারগুলো কিভাবে হ্যান্ডেল করা উচিত? মিডিয়ার দায়িত্ব কি হতে পারে? দলের এবং কর্তৃপক্ষের কি দায়িত্ব থাকতে পারে?

এগুলো নিয়ে ভেবে দেখার সময় হয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর আগের মত নেই। এখন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশ বেশ সুপরিচিত নাম। তাই আমাদের দেশের ইমেজ আমাদেরই ধরে রাখতে হবে। আপনাদের মতামত দিন যাতে সবার নজরে আসে ব্যাপারটা।

দুনিয়া কাঁপানো ৫ দুধর্ষ নারী মাফিয়া

By On 3:48:00 AM
নারী- মমতাময়ী, আবেগপ্রবণ। একটি সমাজ সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার পিছনে নারীর ভূমিকার কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। এজন্যই তো নেপোলিয়নের মুখে উচ্চারিত হয়- “তোমরা আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের সভ্য শিক্ষিত জাতি দেব”। কিন্তু সব নারীই যে আদর্শের প্রতিরূপ হবেন তা কিন্তু নয়। এই পৃথিবীতে এমন অনেক নারী রয়েছে যাদের নৃশংসতার কথা শুনলে আপনি শিউরে উঠতে পারেন। মাদক, চোরাচালান, খুন, রাহাজানি, মানি লন্ডারিং কোথায় জড়িত নেই এই তারা! দুনিয়া কাঁপানো এমনি ৫জন দুধর্ষ নারী মাফিয়ার গল্প বলব আজ।

রোসেটা কুটোলো
ইতালির কুখ্যাত মাফিয়া রাফায়েল কুটোলোর বোন। ১৯৩৭ সালে জন্ম এই রোসেটা কুটোলোকে মাফিয়া সাম্রাজ্যেরসিস্টার অফ রাফায়েলনামেও ডাকা হত। জীবনের শুরুতে এই ধুসর চুলের নারী খুবই ধার্মিক ছিলেন। মায়ের সাথে একাকী ইতালির নেপলসের একটি গ্রামে বসবাস করতেন। গোলাপের চাষ করতেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি হয়ে উঠেন ভয়ঙ্কর মাফিয়া
                        রোসেটা কুটোলো
তার ভাই মাদক সম্রাট রাফায়েল জীবনের অধিকাংশ সময় জেলেই বন্দি ছিলেন জেলবন্দি থাকা অবস্থায় মাদক চোরাচালান ব্যবসার দায়িত্ব নেয় রোসেটা জেল থেকে রাফায়েল যে নির্দেশ এবং পরামর্শ দিতেন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন রোসেটা পনের বছরের অধিক সময় ধরে গোলাপ চাষের আড়ালে ভাইয়ের মাদক সম্রাজ্যে ভাইয়েরই নির্দেশে নিভৃতে কাজ করে গেছেন এই নারী
ভাইয়ের এই সংগঠনের দায়-দায়িত্ব নিষ্ঠাভরে পালন করার কারণে জেলে থেকেও রাফায়েল তার মাদক সাম্রাজ্যকে অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। পুলিশের সন্দেহ, রোসেটা সেসময় থেকেই এই সংগঠনকে শক্ত হাতে ধরতে না পারলে এই সংগঠন ভেঙ্গে পড়তো। রোসেটা একটি দূর্গ কিনেছিলেন। সেখানেই আড়ালে চলতো চোরাচালান ব্যবসা। সর্বশেষ, ১৯৯৩ সালে পুলিশের কাছে ধরা দেন রোসেটা কুটোলো

সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান

১১ অক্টোবর ১৯৬০ সালে জন্ম সান্ড্রা আভিলা বেলট্রানের চোখে মুখে সবসময়ে লেগে থাকতো দুষ্টুমির ইঙ্গিত তার মুচকি হাসি সকলকে মোহিত করে রাখতো যখনই ফটোশুট করাতেন তখনই আরও মোহনীয় রূপ বেরিয়ে আসতো তার কিন্তু তার এই হাসির পিছনে লুকিয়ে থাকতো এক হিংস্র ইমেজ তাকে কেন্দ্র করে মেক্সিকোতে গড়ে উঠে এক বিশাল মাদক জগত দেশের সবচেয়ে বড় ড্রাগ ডিলার গ্যাংস্টার হয়ে উঠেন সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান
সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান

৫৬ বছরের সান্ড্রা একসময় হয়ে উঠে মেক্সিকো সহ পুরো আমেরিকা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় ড্রাগ মাফিয়া। বেশ ধনী মহিলা সান্ড্রা বলতে গেলে কয়েক বিলিয়ন ডলারের মালিক। মাদক সাম্রাজ্যে তাকে ‘দ্যা কুইন অফ দ্যা প্যাসিফিক’ অনেকে ডেকে থাকেন।

তার দু’চোখের সম্মোহনী সুধা যেকোনো পুরুষকেই কাছে টেনে নেয়ার মতই। এমন যাদু মাখানো তার দু’চোখ যে খোদ পুলিশ কর্তারা পর্যন্ত তার প্রেমে হাবুডুবু খেতেন। গুলির লড়াই নয়, চোখের ইশারায় মেক্সিকোর দুই পুলিশ কর্তাকেই পকেটে পুরেছিলেন সান্ড্রা। দু’বার দুই পুলিশকে বিয়ে করেন বেলট্রান। পরবর্তীকালে দুই স্বামীকে ড্রাগ ব্যবসার কাজে নামিয়ে ছিলেন তিনি। পরে সুযোগ বুঝে দু’জনকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে সান্ড্রাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মাদক, চোরাচালানের সঙ্গে বেআইনি অস্ত্র চোরাচালান এবং মানি লন্ডারিং ইত্যাদি অনেকগুলো অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। তবে পুলিশকে বেলট্রান জানিয়েছিলেন, কাপড় বেচে সংসার চালাতে হয় তাকে।
মাফিয়া কুিইন সান্ড্রা আভিলা বেলট্রান

মেলিসা ক্যালডেরন


 ১২ আগস্ট ১৯৮৪ সাল। মেক্সিকোতে জন্ম এই মেলিসা ক্যালডেরনের। এত অল্প বয়সেই গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল মাদক সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র সম্রাজ্ঞী মেলিসা মারগারিতা ক্যালডেরন ওজেদা। মাদক সম্রাট পেড্রো-র সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলেন তিনি। অপহরণ করে বাড়িতে ফোন করে মুক্তিপণ চাওয়া, মুক্তিপণ না মিললে অপহৃতের বাড়ির সামনেই তার লাশ ফেলে আসার মত দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটানোই হল এই নারী মাফিয়া মেলিসার বাম হাতের কাজ। সবসময় তার সাথে থাকে দুটি মেশিনগান।

মেলিসা অন্ধকার জগতে ‘La China’ নামে অধিক পরিচিত। যে কোনও জঙ্গি সংগঠন তাকে লুফে নিতে সর্বদা তৈরি। তবে ড্রাগ দুনিয়ার বাইরে তার আর কিছুতেই বিশ্বাস নেই। সান্ড্রা পরবর্তী মেক্সিকোর সব চেয়ে নৃশংস নারী গ্যাংস্টার মেলিসা। দুনিয়ার সব থেকে ভয়ানক নামগুলির তালিকায় তার নাম এসেছে।
মেক্সিকো পুলিশের দেয়া তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, মেলিসার বায়োগ্রাফি বেশ আকর্ষণীয়। ২০০৫ সালে অসৎসঙ্গে পড়ে এই ব্যবসায় তার হাতেখড়ি হয়। আরেক মাদক সম্রাট এল চ্যাপো গুজম্যানের হাত ধরে তার উত্থান ঘটে। মাত্র তিন বছরের মাথায় ২০০৮ সালেই দিব্যি বনে যান মাফিয়া কুইন নামেই। মেজাজি মাথা ও সুন্দর চেহারার জন্য এ সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী হতে তার বিশেষ দেরি হয়নি।

পুলিশের আরেকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মেলিসা ক্যালডেরন কম করে হলেও ১০৫ জনকে গুলি করে খুন করেছে। ৩২ বছরের মেলিসার অধীনে ৩০০ জন কুখ্যাত খুনি ও গুণ্ডা অপরাধমূলক কাজ করে থাকে। আপাতত বন্দি মেলিসা। তাকে ধরার জন্য টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয় তারই সহযোগী পেদ্রোকে। অথচ এই পেদ্রোকে একসময় গভীরভাবে ভালবাসেন মেলিসা। সেই প্রেমিক পেদ্রোই শেষমেশ তার প্রেয়সীকে ধরিয়ে দিয়েছিল পুলিশের হাতে।
মেলিসার বয় ফ্রেন্ড পেদ্রো

তবে পুলিশ মেলিসাকে ধরতে পেদ্রোকে ব্যবহার করেছে বেশ সুকৌশলে। পেদ্রোর ওপর থেকে সব অপরাধের চার্জ তুলে নেয়া হবে এমন টোপেই এতোদিনের ভালোবাসার সম্পর্ক বিসর্জন দিয়ে পুলিশের কাছে মেলিসার গোপন ডেরার খোঁজ দেয় পেদ্রো। পুলিশও সুযোগ বুঝে মেলিসাকে গ্রেপ্তার করে। তবে তাই বলে মেলিসার মাদক সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যায়নি। পুলিশের অনুমান, জেল থেকেই এই সাম্রাজ্য চালাচ্ছে ডন মেলিসা।

এনিডিনা আরিলানো ফেলিক্স


 তিনি মারিও পুজোর লেখা ‘গডফাদার’ চরিত্র না হলেও অপরাধ দুনিয়ায় বিশেষভাবেই পরিচিত ‘গডমাদার’ নামে। অনেকে আবার ‘দ্য বস’ নামেও ডাকে। ১২ এপ্রিল ১৯৬১ সালে জন্ম এই গড মাদার মেক্সিকোর সব থেকে বড় ড্রাগ চক্র Tijuana Cartel-এর মালিক। এর আগে এই গ্রুপ তার পাঁচ ভাইয়ের অধীনে ছিল।
ভাইদের সাথে এনিডিনা আরিলানো ফেলিক্স

এনিডিনা তাদেরকে মানি লন্ডারিং এবং প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করতো। কিন্তু ২০০০ সালে তাদের প্রধান পরিকল্পনাকারীর পতন ঘটে। তখন থেকে এই গ্রুপের কর্তৃত্ব চলে আসে এনিডিনার হাতে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এনিডিনা বিশ্বের প্রথম ড্রাগ ব্যবসায়ী যে চক্রের সাথে সরাসরি যুক্ত না থেকে প্রথমে দলের আর্থিক দেখভাল করতো। পরবর্তীসময়ে তার ভাইদের গ্রেফতার আর কয়েকজন দলের কয়েজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের খুন হওয়ার মধ্য দিয়ে এই মাফিয়ার ড্রাগ সাম্রাজ্যে প্রবেশ ঘটে। বর্তমানে তিনি একমাত্র নারী ডন যার হাতে রয়েছে সবচেয়ে বড় ড্রাগ কারবারের কর্তৃত্ব।

মারিয়া লিওন


 ইনি স্প্যানিশ অভিনেত্রি মারিয়া লিওন নন। অপরাধ জগতের কুখ্যাত ডন মারিও লিওন। ১৩ সন্তানের জননী এই মারিও লিওন লস এঞ্জেলসের মাফিয়া জগতের মাথা। মাদক চোরাচালান থেকে সুপার কিলিং, হিউম্যান ট্রাফিকিং- সব জায়গায় তার নাম নানাভাবে জড়িয়ে আছে।
অপরাধ জগতের কুখ্যাত ডন মারিও লিওন

২০০৮ সালে লস এঞ্জেলসে পুলিশের গুলিতে মারিয়ার ছেলে ড্যানি মারা যায়। ফলে লস এঞ্জেলসে থাকা মারিয়ার কাছে আর নিরাপদ মনে হয়নি। গা-ঢাকা দেওয়ার জন্য চলে আসে মেক্সিকোতে। মৃত ছেলের শেষকৃত্যে সামিল হতে গিয়ে ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে মারিয়াসহ এই গ্রুপের অনেক সদস্যই ধরা পড়ে। আদালতে মারিয়ার ৮ বছরের সাজা হয়।